শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পেল ইউক্রেন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১০, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পেল ইউক্রেন

ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের এক বৈঠকে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা করতে গিয়ে ইউক্রেন সামরিক সরঞ্জামের সংকটে পড়েছে, যা দূর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন নিজের সংগ্রহে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিজেদের কাছেই রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধের মাঠে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন আল জাজিরাকে জানান, স্বল্পমেয়াদে ইউক্রেন হয়তো সরাসরি বড় কোনো সুবিধা পাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় ইউক্রেন তাদের নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আরও উন্নত করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন এখন ব্যয়সাশ্রয়ী এবং সহজ প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

ইউক্রেন এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা প্যাট্রিয়ট সারফেস-টু-এয়ার সিস্টেমের অংশ। এই সিস্টেমের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, রাডার এবং একটি কন্ট্রোল ভ্যান থাকে। কন্ট্রোল ভ্যানটি সিস্টেমটিকে চলাচলে সহায়তা করে, যাতে শত্রুপক্ষ সহজেই অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রকৃতিও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে সম্মুখ সমরের ধারণাটি আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে দুই দেশই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলের কৌশল এবং ট্যাংক ও কামানের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। তবে বর্তমানে যুদ্ধের মোড় ঘুরছে নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের দিকে। সামরিক বিশ্লেষক পাভেল লুজিন জানিয়েছেন, কমান্ডার, সৈনিক এবং অস্ত্রের মধ্যে রিয়েল-টাইম সংযোগ এখন যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলে কমান্ড গতি এবং যুদ্ধের সুবিধা অর্জন অনেক বেশি দ্রুত সম্ভব হয়।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এখন সৈন্য সংকট এবং মরুভূমির মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে ড্রোনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। খামারের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়িয়ে শত্রুসেনাদের অবস্থান শনাক্ত করে হামলা চালানো হচ্ছে। কামিকাজে ড্রোন বা বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের মূল কৌশলে পরিণত হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের ময়দানে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে গ্রাউন্ড রোবট বা স্থল রোবট। এই রোবটগুলো শত্রুর বাংকার ধ্বংস করা, মেশিনগান চালানো, খাদ্য ও গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়া এবং আহত সৈনিকদের উদ্ধার করার মতো কাজ করছে।

ইহর চাইকিভস্কি নামের এক উদ্যোক্তা, যিনি টার্নোপিল শহরে রোবোটিক কমপ্লেক্স পরিচালনা করেন, জানিয়েছেন যে সৈন্য সংকটের কারণেই তারা এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছেন। Trench বা পরিখায় প্রাণ দেওয়ার পরিবর্তে তারা এখন রোবট ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন। যুদ্ধের এই প্রযুক্তিগত বিবর্তনই এখন উভয় পক্ষের রণকৌশল নির্ধারণ করছে। তবে এই প্রযুক্তিগত লড়াই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

banner
Link copied!