শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

স্পেনের ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, ৪ ব্রিটিশের আশঙ্কা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

স্পেনের ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, ৪ ব্রিটিশের আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আলমেরিয়ার এক ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লস গালার্দোস ও বেদারের কাছে ছড়িয়ে পড়া এই দ্রুতগামী দাবানলে আটকা পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। উদ্ধারকর্মীরা এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। স্পেনের জরুরি সেবার কর্মকর্তাদের মতে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম মারাত্মক দাবানলের ঘটনা।

অ্যান্ডালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি সেবার তথ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম এবং শুকনা গাছপালার কারণে দাবানলটি খুব দ্রুত বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার হেক্টর বনভূমি ও কৃষিজমি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কয়েকশ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত বাতাসের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আলমেরিয়ার এই অঞ্চলটি বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় হতাহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, চারজন ভুক্তভোগীকে একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে পাওয়া গেছে, যার স্টিয়ারিং হুইলটি ডান দিকে ছিল। এটি থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে নিহতদের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলোর সঠিক পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এছাড়া কিছু ভুক্তভোগী গাড়ি ফেলে পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আগুনের গতি এতই তীব্র ছিল যে তারা শেষ পর্যন্ত রেহাই পাননি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবে তদন্তকারীরা একটি পড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তার বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটিকে কারণ হিসেবে সন্দেহ করছেন।

স্পেনের ইতিহাসে দাবানলের ভয়াবহতা নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০০৫ সালে গুয়াদালাজারা প্রদেশে একটি দাবানলে ১১ জন দমকলকর্মী নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৭৯ সালে লরেত দে মার এবং ১৯৮৪ সালে লা গোমেরার অগ্নিকাণ্ড স্পেনের ইতিহাসের পাতায় শোকাবহ ঘটনার স্মৃতি বহন করে। এবারের আলমেরিয়ার এই ট্র্যাজেডি সেই পুরনো ক্ষতগুলোকে আবারো তাজা করে তুলেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

বর্তমানে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও তীব্র গরমের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন দাবানলের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পাঁচশয়েরও বেশি দমকলকর্মী ও সামরিক সদস্য মাঠে কাজ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এই দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে উত্তরণের সুযোগ কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্পেনের সরকার পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের জাতীয় সম্পদ কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

banner
Link copied!