শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মোনাকো বিস্ফোরণ কাণ্ড: ইউক্রেনে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১০, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

মোনাকো বিস্ফোরণ কাণ্ড: ইউক্রেনে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন

ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের একটি আদালত মোনাকোর একটি বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত এক নারীকে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। রয়টার্স এবং আল জাজিরার তথ্যমতে, নিহত ওই নারীর নাম আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা। এই ঘটনাটি ইউক্রেনের অভ্যন্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। কিয়েভের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কার্যালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে যে আদালত ওই দুই ব্যক্তিকে জামিনবিহীন হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে একজন ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (জিইউআর) একজন পদস্থ ও সম্মানপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অন্যজন সাবেক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ৩৯ বছর বয়সী আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কার মরদেহ উদ্ধার করে। তার মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গুলির খোসাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইন্টারপোল গত সপ্তাহে বেরেজোভস্কাকে গত ২৯ জুন মোনাকোয় সংঘটিত একটি বোমা হামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

মোনাকোর সেই ভয়াবহ হামলায় ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া ব্যবসায়ী ভাদিম ইয়ারমোলাইয়েভ এবং তার সঙ্গী ও সন্তান গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ফ্রান্স ও মোনাকোর সীমান্তে একটি আবাসিক ভবনে সন্ধ্যার সময় ওই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত বৃহস্পতিবার রাতে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আরও তথ্য প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ইয়ারমোলাইয়েভকে কেন টার্গেট করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্পত্তির ব্যবসায়ী ইয়ারমোলাইয়েভ ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার দায়ে ২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে তিনি আর সেই দেশে বসবাস করছেন না। তিনি ইতিমধ্যে ইউক্রেনের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। মোনাকোর কর্তৃপক্ষ আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে বিস্ফোরক স্থাপন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল।

বৃহস্পতিবার আদালতে কৌঁসুলি জানিয়েছেন, মোনাকোর বিস্ফোরণের দুই দিন পর বেরেজোভস্কা পোল্যান্ড থেকে বাসযোগে ইউক্রেনে প্রবেশ করেন। তদন্তকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ট্র্যাক করে তার দুই সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভ্লাদিস্লাভ রিউট প্রথমে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিলেন এবং নিজেই তদন্তকারীদের মরদেহ যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তবে পরবর্তীতে তিনি তার পূর্বের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে তার সঙ্গী ভিতালি ঝাইকোভিচই গুলি চালিয়ে বেরেজোভস্কাকে হত্যা করেছিলেন। রিউট দাবি করেছেন যে ভয়ে তিনি আগের বার দায় স্বীকার করেছিলেন। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম আদালতের কার্যক্রমের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। কিয়েভ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

banner
Link copied!