শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের বড় হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১০, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের বড় হামলা

ছবি : সংগৃহীত

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করার লক্ষ্যে ইউক্রেন তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। দেশটির চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়া ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক সফল হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানের ফলে রাশিয়া তার কৃষ্ণসাগরীয় ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া এখন নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

ইউক্রেনের আনম্যান্ড সিস্টেম ফোর্সেস বা চালকবিহীন সরঞ্জাম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রভডি জানিয়েছেন, গত ৬ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে মোট ১৯টি রাশিয়ান জ্বালানি ট্যাংকার, একটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং একটি ফেরিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ৭ জুলাই রাতেই নয়টি ট্যাংকারে সফল আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব হামলার ফলে ক্রিমিয়ার জ্বালানি সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অভিযান কেবল ক্রিমিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরেও ইউক্রেন একই কৌশলে হামলা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সাইবেরিয়ার ওমস্ক শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শোধনাগারটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম স্থাপনা। এই দীর্ঘ পাল্লার হামলাটি প্রমাণ করেছে যে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও এখন ইউক্রেনের আওতার মধ্যে রয়েছে।

ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো পলেটেনচুক স্থানীয় গণমাধ্যম সাসপিলনেকে বলেছেন যে, রাশিয়া স্থলপথে জ্বালানি সরবরাহে ব্যর্থ হয়ে সমুদ্রপথের ওপর নির্ভর করছে। কের্চ ব্রিজ বা ক্রিমিয়া সেতু ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যাপক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন এই সেতুতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল, যেখানে একটি জ্বালানিবাহী ট্রেনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই ঘটনার পর থেকে রাশিয়া ভারী জ্বালানি পরিবহনে সেতুটিকে ব্যবহার করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে সমুদ্রপথই এখন রাশিয়ার একমাত্র বিকল্প, যা ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই কৌশলকে ক্রিমিয়ার সামরিকীকরণ ধীর করার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, রাশিয়াকে জ্বালানি ও শক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট স্থানে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ও সামরিক সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। রাশিয়া বা ইউক্রেন—কোনো পক্ষই এই হামলাগুলোর ফলে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে জ্বালানি খাতের এই আঘাত যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

banner
Link copied!