শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

হলান্ড বনাম কেন: ইংল্যান্ড-নরওয়ে লড়াইয়ে সেমিফাইনালের টিকিট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১০, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

হলান্ড বনাম কেন: ইংল্যান্ড-নরওয়ে লড়াইয়ে সেমিফাইনালের টিকিট

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর কোয়ার্টারফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড এবং নরওয়ে। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তির জন্য সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই। এবারের বিশ্বকাপে ডার্ক হর্স হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বড় কোনো টুর্নামেন্টে ফিরে চমক দেখিয়েছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড তাদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে এবং এবার চতুর্থবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামবে।

টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে থাকা এরলিং হলান্ড এবং হ্যারি কেনের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ ম্যাচটির মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। রয়টার্স ও আল জাজিরার তথ্যমতে, হলান্ড এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচে সাতটি গোল করেছেন এবং টানা চৌদ্দটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। অপরদিকে হ্যারি কেন প্রতিটি ধাপেই গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। তারা দুজনেই প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জিতেছেন এবং জার্মানির বুন্দেসলিগায় দারুণ সাফল্য পেয়েছেন। তাদের এই লড়াইটি বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার হওয়ার প্রতিযোগিতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হলান্ডকে আটকানো। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ড্যান বার্নকে এই লড়াইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বার্ন ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার দীর্ঘকায় ডিফেন্ডার হিসেবে হলান্ডের বিপক্ষে বেশ কিছু শারীরিক লড়াইয়ে সফল হয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের বিভিন্ন ম্যাচে হলান্ডকে আটকাতে বার্নের অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় ভরসা হতে পারে। তবে হলান্ড তার ক্ষিপ্রতা এবং গোল করার দক্ষতার মাধ্যমে যেকোনো রক্ষণভাগ ভাঙতে সক্ষম।

মাঝমাঠের লড়াইয়ে মার্টিন ওডেগার্ড এবং ডেক্লান রাইসের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে। ওডেগার্ড ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে পাসের দক্ষতা এবং বল নিয়ে দৌড়ানোর ক্ষেত্রে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তাকে আটকাতে আর্সেনালের সতীর্থ ডেক্লান রাইসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে রাইস দীর্ঘদিন ধরে পিঠের চোটে ভুগছেন, যা নরওয়ের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে। ওডেগার্ডের সতেজতা এবং রাইসের চোট ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

মায়ামির ভ্যাপসা গরম এবং আর্দ্রতা দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নরওয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ধাপগুলোতে বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিবেশে খেলেছে, যা তাদের পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। তবে ইংল্যান্ডের জন্যও আবহাওয়া বড় কোনো বাধা নয়, কারণ তারা ইতিমধ্যে একাধিক ভেন্যুতে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ায় খেলে অভ্যস্ত। সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে দুই দলই সেমিফাইনালের স্বপ্ন পূরণে মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে। ফুটবলের এই হাই ভোল্টেজ লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ফুটবল প্রেমীরা।

banner
Link copied!