যুক্তরাজ্যের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম পার্টির তহবিলের উৎস নিয়ে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। দলটির বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ লক্ষ পাউন্ড বা প্রায় ছয় লক্ষ সত্তর হাজার মার্কিন ডলার অনুদান গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির মধ্যেই দলের নেতা নাইজেল ফারাজ আকস্মিকভাবে তার সংসদীয় আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন। রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, পুলিশ দলটির অনুদান আইন ভঙ্গের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা মূলত দেখতে চাইছেন যে এসব অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করা হয়েছে কি না বা দলের কোষাধ্যক্ষকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না।
গোয়েন্দারা মূলত ফিয়োনা কট্রেলের দেওয়া আড়াই লক্ষ পাউন্ডের দুটি অনুদানের দিকে নজর দিচ্ছেন। এই অনুদানগুলো গত বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে দেওয়া হয়েছিল। ফিয়োনা কট্রেল হলেন জর্জ কট্রেলের মা, যিনি নিজে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী এবং নাইজেল ফারাজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যে এই তহবিল বিদেশ থেকে বা কোনো কর্পোরেট উৎস থেকে অবৈধভাবে এসেছে কি না। দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এই তদন্ত রিফর্ম পার্টির ওপর নেমে আসা একটি বড় আর্থিক সংকটের অংশ। আরও জানা গেছে যে ব্যাংকগুলো ফিয়োনা কট্রেলের আরও প্রায় দশ লক্ষ পাউন্ড বা প্রায় তেরো লক্ষ মার্কিন ডলারের একটি লেনদেন ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কাছে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রিফর্ম পার্টির উপনেতা রিচার্ড টাইস অবশ্য এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে দলের কোনো কর্মকর্তাকে এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
নাইজেল ফারাজ এই সপ্তাহেই তার সংসদীয় আসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে অবাক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে আগামী তেরো আগস্ট উপনির্বাচনে তিনি পুনরায় জনগণের রায় যাচাই করতে চান। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি মূলত তার আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে চলা সংসদীয় মানদণ্ড সংক্রান্ত তদন্ত প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ফারাজের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগকারী ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে পঞ্চাশ লক্ষ পাউন্ড বা প্রায় সাঁইত্রিশ লক্ষ মার্কিন ডলার গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে।
এই বিশাল অংকের অর্থ গ্রহণ নিয়ে ফারাজ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একেক রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একবার তিনি একে ব্রেক্সিট প্রচারণার পুরস্কার বলেছেন, আবার একে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা তহবিল বা উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফারাজ বারবার দাবি করছেন যে তিনি কোনো ভুল করেননি। তবে বিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তার এই পদত্যাগ ও পুনরায় নির্বাচনের উদ্যোগকে একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অন্যান্য দল জানিয়েছে, তারা এই উপনির্বাচন বয়কট করবে। বর্তমানে নির্বাচনে ফারাজের একমাত্র প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছেন কাউন্ট বিনফেস নামের একজন বিদ্রূপাত্মক বা প্যারোডি প্রার্থী।
