টাইফুন বাভির প্রভাবে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি এখন তাইওয়ান, চীন এবং জাপানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে দেশটির দক্ষিণ অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন।
ফিলিপাইনের দক্ষিণ দ্বীপ মিন্দানাওয়ে ভূমিধসের কারণে অসংখ্য পরিবার মাটির নিচে চাপা পড়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত উদ্ধার তৎপরতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সপ্তাহজুড়ে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। ফিলিপাইনের আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ঝড়ের মূল কেন্দ্র সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
টাইফুন বাভির ব্যাপ্তি প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার। এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ঝড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঝড়ের এই বিশাল আকার ফ্রান্সের আয়তনের সমান বলে মনে করা হচ্ছে। এটি প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব দিকে আঘাত হানতে পারে। এরপর ঝড়টি জাপানের কিছু দ্বীপ হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব চীনের দিকে অগ্রসর হবে।
তাইওয়ান সরকার ইতোমধ্যে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯,০০০ সেনাসদস্যকে উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুত রেখেছে। দ্বীপটিতে স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক স্থানে মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং অনেক এলাকায় বালুর বস্তা বিতরণ করা হয়েছে।
চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশেও বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের তীব্রতার কারণে অনেক বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। জাপানের সাশিশিমা দ্বীপপুঞ্জেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে টাইফুন মেসাকের প্রভাবে দক্ষিণ চীনে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছিল। সেই দুর্যোগে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১,৩০,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। বাভি মোকাবিলায় চীন ও জাপান প্রশাসন তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
জেলেদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কোনো ঝুঁকি না নেন। মাছ ধরার জাহাজগুলো যেন তীরে নোঙর করে রাখা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ঝড়ের সময় প্রকৃতি শান্ত মনে হলেও তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার বদলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার সরঞ্জাম ও খাবার মজুদ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা প্রতিটি এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন। আশা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
