জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ হোসেনকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ওপর এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার জুমার খুতবা ও নামাজ শেষ করার পর ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে মুক্তি দিলেও মসজিদে প্রবেশের ওপর এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। জেরুজালেম গভর্নর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা নবায়নযোগ্য এবং আগামী এক সপ্তাহ তিনি ইসলামের অন্যতম পবিত্র এই স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জুমার খুতবায় শেখ মুহাম্মদ হোসেন ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। মূলত এই খুতবার বিষয়বস্তুর কারণেই তাকে আটক করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে জেরুজালেম গভর্নর কার্যালয় আল জাজিরাকে জানিয়েছে, তাকে মসজিদে প্রবেশের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার লক্ষ্যেই আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শেখ মুহাম্মদ হোসেনের আটক বা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ধর্মীয় নেতাদের প্রবেশের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় মসজিদের ইমাম ও নেতাদের ওপর এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত কয়েক বছর ধরে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি নানা পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই একে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গত দুই বছরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক হাজার একশ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত দুইশ তেতাল্লিশ জন শিশু রয়েছে। নিয়মিত সামরিক অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে ইসরায়েলি বাহিনীর নানা পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গ্র্যান্ড মুফতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
ফিলিস্তিনিদের জন্য আল-আকসা কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি তাদের জাতীয় পরিচয় ও ইতিহাসের অন্যতম অংশ। সেখানে ধর্মীয় নেতাদের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে তারা নিজেদের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে শেখ মুহাম্মদ হোসেনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিম বিশ্বে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আল-আকসা প্রাঙ্গণ ও এর চারপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আগামী এক সপ্তাহ পর এই নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।
