টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানির স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদু হক জানিয়েছেন যে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বিবেচনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন যে জেলার এগারোটি উপজেলায় মোট এক হাজার তিনশ এগারোটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগের সময় মানুষ যেন দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে পারে সেজন্য প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌযান ও স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগকে জরুরি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে বন্যা প্লাবিত এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যায়। নদীর পানি যদি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।
সুনামগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে হাওর বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সব সময় বেশি থাকে। বর্ষা মৌসুমে উজানের পানির চাপে অনেক সময় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই কারণে জেলা প্রশাসন আগেভাগেই সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। নদ-নদীর পানির পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে কোনো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আগেই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা যায়। প্রশাসন আশা করছে যে সব ধরনের প্রস্তুতি থাকায় এবার বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
