ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার ভোরে চালানো এই হামলায় অন্তত ১১ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্স এবং এএফপি-র তথ্যমতে, এটি ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র আক্রমণ। কিয়েভের আকাশসীমা রক্ষায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর সীমিত সক্ষমতা এবং পশ্চিমা সামরিক সহায়তার অপেক্ষার মধ্যে এই হামলা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনপরাভদা এবং কিয়েভ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাত তিনটার পর থেকে কিয়েভে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া ব্রায়ানস্ক অঞ্চল থেকে ছয়টি ইস্কান্দার-এম বা এস-৪০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সাথে অন্তত একশ একুশটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী একশ এগারোটি ড্রোন এবং দুইটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও সবকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, হামলায় আহতদের মধ্যে একটি এগারো বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। আহতদের চারজনকে জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডারনিৎস্কি জেলায় একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে আগুন লেগেছে এবং সোলমিয়ানস্কি জেলায় একটি তিনতলা অফিস ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের উপকণ্ঠে জরুরি কর্মীরা বিশেষ অগ্নিনির্বাপক ট্রেনের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিমানবন্দরের কাছে রেলওয়ে লোকোমোটিভ এবং আশেপাশের বাণিজ্যিক গুদামঘর ও একটি ফার্মেসিতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে বেশ চাপের মুখে রয়েছে। প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলোকে ম্যানুয়াল মোডে পরিচালনা করতে বাধ্য হওয়ায় এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
এই সপ্তাহের শুরু থেকে কিয়েভ এবং এর আশেপাশের এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলার তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শুরুর পর থেকে কিয়েভ ও এর উপকণ্ঠে অন্তত ষাট জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কিয়েভ ছাড়াও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত এগারোটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে রাশিয়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
