শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

টাইফুন বাভির আঘাত: চীনে ৬ লক্ষাধিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১১, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

টাইফুন বাভির আঘাত: চীনে ৬ লক্ষাধিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

ছবি : সংগৃহীত

টাইফুন বাভির সম্ভাব্য আঘাতের আশঙ্কায় চীনের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ৬ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জ এবং উত্তর তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার পর শক্তিশালী এই সামুদ্রিক ঝড়টি এখন চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরের কমলা সতর্কতা জারি করেছে।

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ৫ লক্ষাধিক এবং প্রতিবেশী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও ১ লক্ষ মানুষ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার ভোর নাগাদ ঝড়টি ঝেজিয়াং প্রদেশের জনবহুল শহর ওয়েনজৌর উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে ব্যাপক বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। অনেক স্কুল ও ফেরি সার্ভিস স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের নিংদে শহরে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩,৭০০ জনেরও বেশি মানুষকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে ১৭,০০০ এরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। যদিও বাভি ঝড়টি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার পর কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবুও এর বাতাসের সাথে থাকা প্রচুর জলীয় বাষ্পের কারণে এটি এখনও যথেষ্ট বিপজ্জনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ফিলিপাইনে টাইফুন বাভির প্রভাবে মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাইওয়ানেও এই ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। দ্বীপটির কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্যমতে, শনিবার ঝড়টি তাইওয়ানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ৩৬ জন আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে যাতায়াতের সময় প্রবল বাতাসে ও বৃষ্টিতে পিচ্ছিল রাস্তায় তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। তাইওয়ানে ১৪,২১০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাপানের ওকিনাওয়াতে ঝড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতার কারণে ২০০ এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে গত শুক্রবার থেকেই প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিপাত চলছে। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান ও গুয়াংজি প্রদেশগুলো এর আগে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় মেসাকের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা থেকে তারা এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। নাননিং শহরে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের দেশগুলোর দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

banner
Link copied!