ব্রিটেনের প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন কনজারভেটিভ মন্ত্রী অ্যান উইডেকম্বকে তার নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার পর পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। ৭৮ বছর বয়সী উইডেকম্ব ডার্টমুরের ডেভন অঞ্চলে অবস্থিত তার বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১১:৪০ মিনিটের দিকে জরুরি সেবা সংস্থা অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ডেভন ও কর্নওয়াল পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং তারা এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবেই তদন্ত করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষকে খুঁজছেন তারা। ঘটনার তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বেশ গতিশীলভাবে এগিয়ে চলছে। পুলিশ সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ জনগণের কাছে কোনো ধরনের অনুমান বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর ইলোনা রসন জানিয়েছেন, যদি কারো কাছে এই ঘটনার সাথে জড়িত সামান্যতম তথ্যও থাকে, তবে তা যেন দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা বা ড্যাশ ক্যামেরার ফুটেজ যদি কারো কাছে থেকে থাকে, তবে তা তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও আশ্চর্যজনক খবর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে অ্যান উইডেকম্বের পরিবারের প্রতি তার গভীর সমবেদনা রয়েছে এবং এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপরাধীকে খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন। কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক জানিয়েছেন যে এই খবরে তিনি স্তব্ধ। তিনি অ্যান উইডেকম্বকে একজন সাহসী ও স্পষ্টবাদী নারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অ্যান উইডেকম্ব ১৯৮৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টির এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জন মেজরের সরকারের স্বরাষ্ট্র এবং কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের পর তিনি মিডিয়া ও বিনোদন জগতেও বেশ পরিচিতি পান। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রেক্সিট পার্টির এমইপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দিয়ে অভিবাসন ও বিচার বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। তার অকাল প্রস্থান ব্রিটেনের রাজনীতির জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
