শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

গাজার হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট: চরম ঝুঁকিতে রোগী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১১, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

গাজার হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট: চরম ঝুঁকিতে রোগী

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে স্থানীয় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জ্বালানির তীব্র অভাবের কারণে হাসপাতালের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামগুলো অকেজো হয়ে পড়ছে। ডেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের চিত্রটি পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার প্রমাণ। সেখানে আহত রোগীরা এক্স-রে বা জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেবা পাচ্ছেন না।

ওমার আবু আতওয়া নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি হাসপাতালে হাত ভাঙার চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখেন পুরো ওয়ার্ড অন্ধকারে ডুবে আছে। তার মতো শত শত শিশু, বৃদ্ধ ও আহত ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইসরায়েলি হামলায় গত অক্টোবর থেকে গাজার ৩৮টি হাসপাতাল এবং ৯৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হয় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, অথবা অকেজো হয়ে পড়েছে। গাজার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের প্রায় ৯০ শতাংশ লাইন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু চলমান অবরোধের কারণে জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন যে, ভেন্টিলেটর, ইনকিউবেটর ও মনিটরিং ডিভাইসের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিগুলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অভাবে অকেজো থাকছে। এছাড়া নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের কারণে অনেক জেনারেটর বিকল হয়ে পড়েছে। আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের সার্জন ওমর আল-আশতাল জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় তারা অস্ত্রোপচার বিলম্বিত বা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে রোগীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও রোগীর তথ্য সংগ্রহের ইলেকট্রনিক পদ্ধতিও অচল হয়ে পড়েছে।

নার্স হামজা নাওয়াস জানিয়েছেন, প্রতিদিন তাদের তীব্র চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা গরমের তীব্রতা ও বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। হাসপাতালের জ্বালানি প্রকৌশলী ওমর আল-ঘারিয জানিয়েছেন যে, জেনারেটরগুলো তাদের ধারণক্ষমতার বাইরে টানা কয়েক মাস ধরে চলছে। কোনো জ্বালানি সংকট বা কারিগরি ত্রুটির কারণে হঠাত্ এগুলো বন্ধ হয়ে গেলে পুরো হাসপাতাল অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য খাতের এই বেহাল দশা কয়েক হাজার রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীর জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বোমা হামলায় আহত নতুন নতুন রোগীদের চাপ সামলানো এবং রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে নতুন জেনারেটর, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রাংশ সরবরাহের আবেদন জানিয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

banner
Link copied!