শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

নাইজেরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উদ্ধার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১১, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

নাইজেরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো রাজ্যে অপহৃত ডজন ডজন স্কুল শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সফলভাবে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ৫৬ দিন বন্দি থাকার পর তারা মুক্তি পেয়েছেন। শুক্রবার নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু এই সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই উদ্ধার অভিযানে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেছে।

চলতি বছরের ১৫ মে ওয়ো রাজ্যের দুটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক স্কুল থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থী ও স্টাফকে অপহরণ করেছিল সশস্ত্র ব্যক্তিরা। অপহৃতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী শিশুর বয়স ছিল দুই বছর এবং সবচেয়ে বেশি বয়সীদের মধ্যে ছিল ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অপহরণের পরপরই একজনকে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু জানিয়েছেন, অভিযানে আটজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকজন নিহত হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কতজন নিহত হয়েছে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নাইজেরিয়ায় স্কুল থেকে শিক্ষার্থী অপহরণ এখন এক উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সাধারণত সরকারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য এমন কাজ করে থাকে। এসবিএম ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৪ সালেই বন্দুকধারীরা মুক্তিপণ হিসেবে ১৬ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোয়কো হারামের বিদ্রোহ ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশটির পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ওয়ো রাজ্যের এই ঘটনার আগে অপহরণের ঘটনাগুলো মূলত উত্তরের রাজ্যগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও এই সংকট ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট তিনুবু এই সফল সামরিক অভিযানকে পুরো জাতির জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র বায়ে ওনানুগা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃতদের কারো বিনিময়ে কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। অর্থাৎ কোনো মুক্তিপণ ছাড়া বা শর্ত ছাড়াই এই উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে বা কোন কৌশলে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মুসা জানিয়েছিলেন, আক্রমণকারীরা জিম্মিদের ব্যবহার করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল। তাদের দাবি ছিল, কারাগারে থাকা তাদের কমান্ডারদের মুক্তি দিতে হবে। তবে সরকারের অনড় অবস্থানের ফলে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত এই জিম্মি নাটকের অবসান ঘটল। ওয়ো রাজ্যের এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে উদ্ধার কার্যক্রমে এই ভীতি এখন অনেকটাই কেটেছে। সরকার ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

banner
Link copied!