মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

নাইজেরিয়া ও চাদে বিমান হামলা: ১০০ নিহতের তদন্ত চায় জাতিসংঘ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

নাইজেরিয়া ও চাদে বিমান হামলা: ১০০ নিহতের তদন্ত চায় জাতিসংঘ

নাইজেরিয়া এবং চাদের সামরিক বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় ১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহতের খবরে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক বুধবার এক বিবৃতিতে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে একটি জনাকীর্ণ বাজারে সেনাবাহিনীর হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভলকার তুর্ক তার বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং উভয় দেশের সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১০ মে নাইজেরিয়ার জামফারা প্রদেশের তুমফা গ্রামের একটি বাজারে নাইজেরীয় বিমান বাহিনীর হামলায় অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু ছিলেন। সংস্থাটি এই ঘটনাকে জামফারার দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বর্ণনা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে বাজার চলাকালীন হঠাৎ করেই আকাশ থেকে গোলাবর্ষণ শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

অন্যদিকে চাদের বিমান বাহিনী গত শুক্রবার থেকে নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন এবং নাইজার সীমান্তে অবস্থিত লেক চাদ অঞ্চলের দ্বীপগুলোতে বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপি-এর আস্তানায় হামলা চালাচ্ছে। এই হামলায় বোকো হারামের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপগুলোতে কর্মরত কয়েক ডজন নাইজেরীয় মৎস্যজীবী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকৃত ফুটেজে দেখা গেছে যে অগ্নিদগ্ধ অনেক মৎস্যজীবী নাইজারের বোসো শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভলকার তুর্ক এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি বেসামরিক জানমাল রক্ষায় সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী অবশ্য বেসামরিক নিহতের এই অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছে। প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বুধবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে জামফারা রাজ্যে কোনো বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এমন নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার মতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠকে এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং সেখানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সফলভাবে নির্মূল করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাণহানির সংখ্যাকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করা হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় গত ১৭ বছর ধরে তথাকথিত ‘ডাকাত’ ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ প্রায়শই সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র দলগুলোর ত্রিমুখী লড়াইয়ের শিকার হচ্ছে। জাতিসংঘ মনে করছে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দোহাই দিয়ে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি এখন নাইজেরিয়া ও চাদ উভয় দেশের সরকারের কাছে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের অপেক্ষা করছে যা প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে।

banner
Link copied!