দখলকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গ্রামের স্কুল, মসজিদ এবং বাড়িঘরের দেওয়াল বর্ণবাদী ও উস্কানিমূলক স্লোগানে ভরিয়ে তুলছে উগ্রবাদী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাদের জোরপূর্বক নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যেই এই ধরনের অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা ও ঘৃণাত্মক প্রচারণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
নাবলুস থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত জিলাদ গ্রামের একটি স্কুলের দেয়ালে কালো কালিতে প্রতিশোধমূলক এবং হুমকিপ্রসূত স্লোগান লেখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে গভীর রাতে কিংবা প্রকাশ্য দিবালোকে বসতি স্থাপনকারীরা এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। ফিলিস্তিনি জনবসতি ও জনসমাগমস্থলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর পাশাপাশি বাইবেলের বিভিন্ন উদ্ধৃতি ব্যবহার করে এই অপরাধগুলোকে জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়।
গ্রামটির বাসিন্দারা উল্লেখ করেছেন যে বিদ্যালয়ের দেয়ালে অঙ্কিত এই স্লোগানগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের মনে ভয়ভীতি তৈরি করা যাতে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে ভয় পায়। উগ্রবাদী দলগুলোর সদস্যরা সাধারণত ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি মুছে ফেলার জন্য এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে থাকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বহুবার এই ধরনের বেআইনি বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতার নিন্দা জানালেও পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সুরাহা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের গ্রাফিতি কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ। ফিলিস্তিনিদের শেকড় ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানার মাধ্যমে তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়াই এসব অপরাধের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে উপাসনালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ধরনের উস্কানি দেওয়ার ফলে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও মাটিতে এর কোনো কার্যকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো প্রতিদিন চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা অবিলম্বে এই ধরনের বর্ণবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন।
