মার্কিন কংগ্রেস এবং ওয়াশিংটনের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রো-ইসরায়েল লবিং গ্রুপগুলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে দুই বা আড়াই দশক আগেও ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি লবির যে ব্যাপক শক্তিশালী অবস্থান ছিল, বর্তমান সময়ে তা আর আগের মতো দেখা যায় না। প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের অবস্থানের পরিবর্তন লক্ষ্য করে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপেও মার্কিন জনগণের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে এক ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এর আগেও বেশ কয়েকবার মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন হ্রাসের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এবং রিপাবলিকান দলের ভেতরকার মেরুকরণ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাছাড়া সেনেট সংখ্যালঘু নেতা চক শুমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কংগ্রেসে ইসরায়েলপন্থী প্রভাবের এই ধীর পতন ভবিষ্যতে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের যে শক্তিশালী মিত্রতা ছিল, তা রাতারাতি পুরোপুরি বদলে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নীতিনির্ধারক ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ইসরায়েল নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসন্ন রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং জনমতের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের প্রধান দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।
