রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

অস্ত্র সংকট কাটাতে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ পেন্টাগনের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

অস্ত্র সংকট কাটাতে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ পেন্টাগনের

ইরানের সাথে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের ফলে অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত কমে যাওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, প্যাট্রিওট এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলোর সরবরাহ তলানিতে ঠেকায় ওয়াশিংটন চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শান পার্নেল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান হুমকির মুখোমুখি হতে এবং সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয় অস্ত্র দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ত্র কেনাকাটার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন যে এই উদ্যোগটি পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের আগের থেকেই চলা একটি বৃহত্তর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ।

এর আগে গত বুধবার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফাইনবার্গ দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের কাছে একটি গোপন মেমো পাঠান। ওই নির্দেশিকায় ঠিকাদারদের একুশ দিনের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত ও আক্রমণাত্মক উপায়ে অস্ত্র সরবরাহের সময়সূচি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফাইনবার্গ তার ওই বার্তায় স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে বছরের পর বছর ধরে চলা দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন প্রক্রিয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং অবিলম্বে উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।

ইরানের সাথে চলমান লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিহতকারী অস্ত্রগুলো প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছে। কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক দুই ধরনের অস্ত্রের এই ঘাটতি মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সীমিত মজুদের কারণে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে অস্ত্র সংকটের এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ঘাটতির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে গোলাবারুদ রয়েছে এবং দেশজুড়ে নতুন কারখানা ও প্ল্যান্ট নির্মাণের মাধ্যমে উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের বাজেট প্যানেলে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বরাদ্দ প্রস্তাব আটকে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে বর্তমান তহবিল ও নতুন বিনিয়োগ সত্ত্বেও প্যাট্রিওট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের পূর্বের মজুদ ফিরিয়ে আনতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।

banner
Link copied!