যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা তীব্র সংঘাতের মাঝে নিজেদের অটল অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে তেহরান। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন দাবি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইরান লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন নিরাপত্তা প্রধানের সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় দেশটির সরকার।
চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরপরই ইরানের নতুন নিরাপত্তা প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কঠোর বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং নৌ অবরোধ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। একই সঙ্গে লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলজুড়ে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার দাবিও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক যুদ্ধকালীন এই শীর্ষ কমান্ডার আরও উল্লেখ করেছেন যে সমস্ত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এই জলপথটি বন্ধই থাকবে। তেহরানের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এর আগে নিয়োগ পাওয়া সামরিক কমান্ডাররাও একই রকম অনমনীয় মনোভাব পোষণ করে আসছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক। এই বৈঠকে তিনি তেহরানে নিযুক্ত চীনের দূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করার জন্য তিনি বেইজিংকে ধন্যবাদ জানান এবং ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টি ওয়াশিংটনের প্রভাবমুক্ত বলে মন্তব্য করেন।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। ওমানের মধ্যস্থতায় কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি। সংঘাতের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর গভীর সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৌতূহলী পর্যবেক্ষকরা।
