২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াই এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা। শিরোপা জয়ের পথে প্রতিটি দলের সামনে এখন দুটি মাত্র জয়। কিন্তু সেমিফাইনালে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই। ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করার জন্য দলগুলো প্রস্তুত।
প্রথম সেমিফাইনালে ডালাস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। ইউরোপের এই দুই শক্তির লড়াইটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ক্লাসিক ম্যাচ হতে পারে বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ফ্রান্সের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে দুই গোলের জয়ে তিনি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা আটটিতে নিয়ে গেছেন। তিনি এখন লিওনেল মেসির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের খুব কাছে। তবে ফ্রান্সের শক্তি কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। উসমানে দেম্বেলে এবং মাইকেল ওলিসের মতো তারকারা কোচ দিদিয়ের দেশমের দলের মূল শক্তি।
অন্যদিকে স্পেন দলটির পারফরম্যান্স ক্রমেই উন্নতি করছে। তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক দল। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামকে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালে এসেছে। তবে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এখনো তার সেরা ফর্মে ফিরতে পারেননি। মঙ্গলবার সেমিফাইনালে তিনি নিজের সেরা খেলাটি উপহার দেবেন বলে আশা করছেন ভক্তরা। পরিসংখ্যানে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও স্পেন গত ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আটলান্টা স্টেডিয়ামে বুধবার লড়বে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচটি কেবল ফুটবল নয়, বরং অনেক পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতারও বহিঃপ্রকাশ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই ম্যাচেও ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মঞ্চে খেলতে নামছেন। আট গোল নিয়ে তিনি এখন গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এমবাপ্পের সঙ্গে সমান অবস্থানে আছেন।
ইংল্যান্ড তাদের দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে মরিয়া। জুড বেলিংহাম এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলছেন। নকআউট পর্বের শেষ দুই ম্যাচে তিনি গোল করেছেন, যা দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম কোনো খেলোয়াড় হিসেবে এই অর্জন করলেন তিনি। অধিনায়ক হ্যারি কেনও বেলিংহামের সমান ছয়টি গোল করে দলের আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কোচ টমাস টুচেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল রক্ষণভাগ ও আক্রমণে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেলেও টুচেল শিষ্যদের খেলায় আরও উন্নতির তাগিদ দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ডের জন্য এটি ২০১৮ সালের পর চতুর্থ বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবার শেষ চারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত চাপের। উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা ফাইনালে জায়গা করে নেবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।
