ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাল্টা আঘাত হেনেছে। রয়টার্স ও আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খাজেস্তান প্রদেশে ইরানের আটটি শহরে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এতে এক নিরাপত্তা রক্ষী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
ইরানি বাহিনী কয়েক ঘণ্টা পরই এর জবাব দেয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি দীর্ঘপাল্লার রাডার সিস্টেম, ওমানে জাহাজ শনাক্তকরণ রাডার এবং কুয়েতে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতের ওই ঘাঁটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় চারটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে যা ইরান থেকে ছোঁড়া হয়েছিল।
গত শনিবার থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে এই সংঘাত নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে এই অঞ্চল এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সামরিক পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এই এলাকায় সামরিক অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দেয়নি। বরং উভয় দেশই তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহরাইনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং মিত্রদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি পুনর্প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
