বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

নির্বাচনে জয়ী হলে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হতে চান নওয়াজ শরিফ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

নির্বাচনে জয়ী হলে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হতে চান নওয়াজ শরিফ

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনে জয়ী হলে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ দলের প্রধান নওয়াজ শরিফ। সম্প্রতি মুজাফফরাবাদে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তার মতে, এই দায়িত্ব পেলে তিনি অঞ্চলটির সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে নওয়াজ শরিফ জানান যে আজাদ কাশ্মীরের গুরুত্ব তার কাছে পাঞ্জাবের মতোই অপরিসীম। তিনি এই অঞ্চলটিকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে তার পূর্বপুরুষদের শিকড়ও এই ভূখণ্ডের সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই অভিজ্ঞ নেতা মনে করেন যে অঞ্চলটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হওয়া গেলে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো অনেক দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী সাতাশ জুলাই থেকে দশ আগস্টের মধ্যে পাকিস্তানের এই অংশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারে জোটসঙ্গী হলেও এই নির্বাচনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি। ফলে নির্বাচনী লড়াইটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আজাদ কাশ্মীরের সার্বিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের অস্বাভাবিক উচ্চ বিল এবং সরকারি বিশেষ সুযোগ-সুবিধার বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ সামাল দিতে গিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আন্দোলন দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নওয়াজ শরিফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের বিষয়টি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে তার দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অনুরোধ করবেন তাকে আজাদ কাশ্মীরের প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি মাঠপর্যায়ে থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে এই পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বরাবরই তীব্র আপত্তি জানানো হয়ে আসছে। নয়াদিল্লির কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের পুরো ভূখণ্ড ভারতের অখণ্ড ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হয়। ভারতের মতে, পাকিস্তান এই অঞ্চলের একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সেই কারণে পিওকে কিংবা গিলগিট-বালতিস্তানে অনুষ্ঠিত যেকোনো নির্বাচন কিংবা সেখানে গঠিত আইনসভাকে কোনোকালেই স্বীকৃতি দেয়নি নয়াদিল্লি।

banner
Link copied!