জার্মানির রাজধানী বার্লিনের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এক প্রাইড সমাবেশ চলাকালে ভিড়ের ওপর একটি দ্রুতগতির মিনিভ্যান তুলে দেওয়ায় ১ জন নিহত ও অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। শনিবার রাতে শহরের বিখ্যাত ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের কাছে টায়ারগার্টেন পার্কে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে যানবাহনটি উৎসবমুখর পথচারীদের ওপর উঠে পড়ে এবং পরবর্তীতে একটি গাছে ধাক্কা লেগে থেমে যাওয়ার পর চালক দ্রুত পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়ির চাপায় এক নারী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। আহত ১৬ জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং আটজন গুরুতর আঘাত নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার ভয়াবহতায় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়া প্রায় ৩০ জনকে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলেই জরুরি মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদান করেছে। প্রাথমিক ধাক্কার পর প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্রের আঘাতেও আহত হয়েছেন, যা পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে।
জার্মানির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে সারা শহরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। পুলিশের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম আব্দুল বি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ জানিয়েছেন, ওই যুবকের সঙ্গে স্থানীয় কিছু চরমপন্থী ভাবাপন্ন গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হতে পারে, তাই সাধারণ মানুষকে তার মুখোমুখি না হয়ে অবিলম্বে নিরাপত্তা সংস্থাকে জানাতে সতর্ক করা হয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এই ঘটনাকে একটি জঘন্য ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। বার্লিনের মেয়র কাই ওয়েগনার বলেছেন যে এটি মুক্ত ও স্বাধীন সমাজের ওপর এক প্রকাশ্য আঘাত। হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবেই ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের প্রধান মঞ্চের সকল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সমাপনী সমাবেশ বাতিল করা হয়। সেখানে উপস্থিত লক্ষাধিক দর্শনার্থীকে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশে নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়।
ঘটনাস্থলে দ্রুত হেলিকপ্টার নামানোর জন্য পাশের পার্লামেন্ট ভবনের কাছাকাছি একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয় যাতে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত স্থানান্তর করা যায়। যা কম স্পষ্ট তা হলো গাড়ির চালক একাই এই হামলা চালিয়েছে নাকি এতে আরো কোনো সহযোগী জড়িত ছিল। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখে আলামত সংগ্রহ করছে এবং प्रत्यक्षদর্শীদের কাছে থাকা যেকোনো ভিডিওচিত্র বা আলোকচিত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
