সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে সহিংসতা চালাচ্ছে উগ্র জায়নবাদী হিলটপ ইউথ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

পশ্চিম তীরে সহিংসতা চালাচ্ছে উগ্র জায়নবাদী হিলটপ ইউথ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছে ‍‍`হিলটপ ইউথ‍‍` নামের এক উগ্র ধর্মীয় জায়নবাদী বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠী। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে মূলত তরুণ ইসরায়েলিদের নিয়ে গঠিত এই গোষ্ঠীটি যেকোনো উপায়ে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে তৎকালীন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যারিয়েল শারনের আহ্বানে এই গোষ্ঠীর সূচনা হয়েছিল, যিনি বসতি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে তরুণদের পশ্চিম তীরের পাহাড়গুলো দখল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর প্রভাবে এই গোষ্ঠীর শক্তি ও প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের আমলেই এই বসতি স্থাপনকারীরা সবচেয়ে সুবর্ণ সময় পার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধেই জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে এক হাজার তিনশর বেশি বসতি স্থাপনকারী হামলার নথিপত্র তৈরি করেছে। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি হতে পারে। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়াই এই গোষ্ঠীটির মূল কৌশল।

এই উগ্র গোষ্ঠীটির পেছনে বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের শক্তিশালী আর্থিক ও রাজনৈতিক মদদ রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রশাসনিক নির্দেশ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে এই গোষ্ঠীটিকে খাদ্য ও পোশাকের ভর্তুকি হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা অতীতে এই হিলটপ ইউথ আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একসময় প্রান্তিক গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে হিলটপ ইউথ ইসরায়েলি রাজনীতির মূল স্রোতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং সরকারের প্রকাশ্য সমর্থনের কারণে এই গোষ্ঠীটি সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছে। ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষা এবং ভূমি দখল রোধে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে। ফলস্বরূপ, পশ্চিম তীরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রতিনিয়ত চরম অনিশ্চয়তা ও সহিংসতার মুখে পড়ছে।

banner
Link copied!