সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

মিয়ানমারে পাঁচ বছরে প্রথম বিদেশি প্রতিনিধি পেলেন সু চি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

মিয়ানমারে পাঁচ বছরে প্রথম বিদেশি প্রতিনিধি পেলেন সু চি

ছবি - সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকা সাবেক রাষ্ট্রনেতা অং সান সু চি দেশটির রাজধানী নেপিডোতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে রয়টার্স এবং আল জাজিরা জানিয়েছে। সোমবার মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির প্রথম প্রকাশ্যে আসা বৈঠক।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মিয়ানমার বিষয়ক আবাসিক প্রতিনিধি আরনাউড ডি বায়েকের সঙ্গে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রেড ক্রস কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে কারাবন্দি মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও পদ্ধতি অনুসরণ করেই এই সাক্ষাৎ সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠকে সু চির সঙ্গে একান্ত আলাপের সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা বন্দিদের জন্য তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পথ সুগম করে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও গুঞ্জন চলছিল।

এই বৈঠককে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও সু চির পরিবার একে পুরোপুরি যথেষ্ট বলে মনে করছে না। সু চির ছেলে কিম আরিস এক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে এটি কেবল একটি প্রথম পদক্ষেপ মাত্র এবং তা যেন শেষ পদক্ষেপ না হয়। তিনি তার মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, পরিবারের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং সব রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানান। এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিম আরিস জানিয়েছিলেন যে দীর্ঘ বছর ধরে মায়ের কোনো খবর না পাওয়ায় তিনি তার জীবন নিয়ে চরম আশঙ্কায় ছিলেন।

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সু চিকে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হাত মেলাতে এবং একটি জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। কেকের গায়ে খোদাই করা বার্তা থেকে জানা যায় যে অনুষ্ঠানটি গত মাসের শেষ দিকে উদযাপিত হয়েছিল। তবে স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে এসব ছবি বা বৈঠকের পরিবেশের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সু চির সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং তার কারাবাসের মানবিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরকারের এই হঠাৎ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলের চাপ কমানোর একটি কৌশল হতে পারে। সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দেশটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর সামরিক বাহিনীর দমনপীড়ন এবং অর্থনীতি ভেঙে পড়ার কারণে জান্তা সরকার প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আকস্মিক সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে।

banner
Link copied!