মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতিতে ইরানিদের মনে বাড়ছে চরম অনিশ্চয়তা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৩, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম

ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতিতে ইরানিদের মনে বাড়ছে চরম অনিশ্চয়তা

তেহরানের রাস্তায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকটের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে। যুদ্ধ পঞ্চম মাসে গড়ালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিন যুদ্ধ এবং নতুন আলোচনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তেহরানের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী ফাতেমা জানান যে তিনি এই চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে সংবাদের অবিরাম প্রবাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। তার মতে, পরিস্থিতির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তিনি কেবল নিজের এবং পরিবারের মানসিক শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন এবং বাহ্যিক চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।

যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও মানসিক ক্লান্তি চরমে পৌঁছেছে। গত এপ্রিল মাসের শুরুতে যখন মার্কিন প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল, তখনকার তুলনায় বর্তমানে মানুষের উদ্বেগের প্রকাশ কিছুটা ভিন্ন হলেও অন্তর্নিহিত শঙ্কা কাটেনি। তবে মার্কিন নেতৃত্বের এই দ্বিমুখী ও অনিশ্চিত আচরণ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ ব্যাহত করে তুলেছে। ফাতেমার সহকর্মী রোহাম মনে করেন যে অতীতের মার্কিন প্রশাসনগুলোর কার্যপদ্ধতি ভিন্ন ছিল, কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে কথার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে অথচ কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের মতো যথেষ্ট সুযোগ বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা না থাকায় এই সংকট আরও বেশি ঘনীভূত হয়েছে। রোহামের মতে, দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষের মতামত প্রকাশের পরিবেশ সংকুচিত থাকায় নাগরিকরা নিজেদের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই কেবল কূটনৈতিক টেবিল বা সামরিক ঘাঁটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য, কাজের ক্ষেত্র ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

উভয় দেশের পক্ষ থেকেই মাঝেমধ্যে নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনার টেবিলে বসার সদিচ্ছার কথা জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো স্থায়ী বা দৃশ্যমান সুফল দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যদিনের সাধারণ চাহিদা মেটাতে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি ও নানা ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি যতই জোরালো হোক না কেন, পারস্পরিক আস্থার তীব্র ঘাটতির কারণে দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধানের পথ এখনো উন্মুক্ত হয়নি। যা কম স্পষ্ট তা হলো দুই দেশের এই দীর্ঘস্থায়ী মতপার্থক্য ও ক্ষমতার লড়াই নিরসনে আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কবে নাগাদ ঘটবে।

banner
Link copied!