গত বৃহস্পতিবার মধ্য ইউক্রেনের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইতিহাসের অন্যতম বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে মস্কো। হোয়াইট হাউস যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে একটি জ্বালানি চুক্তির মধ্যস্থতার চেষ্টা করার পরপরই কিয়েভও আবার রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা শুরু করেছে।
ডোনাল্ড ট্রৌম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে এই হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে গেছে। তবে হঠাৎ ঘোষণা করা এই যুদ্ধবিরতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজি হয়নি রাশিয়া বা ইউক্রেন কেউ-ই।
রিয়াজান অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ওই স্থাপনা লক্ষ্য করে ৬৯টি ড্রোন এবং চারটি ফ্ল্যামিংগো ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অন্যদিকে মস্কোর দাবি, ভূপাতিত ড্রোন থেকে ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণেই সেখানে আগুন লেগেছে।
শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি দেখানোর জন্য কিছুদিন তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার পর কিয়েভ যে আবার ওই হামলা শুরু করবে, তা গত বুধবার নিশ্চিত করেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জানান যে শোধনাগারে হামলা চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী নেপচুন ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোরোনেঝ অঞ্চলের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালায়। জেলেনস্কি জানান যে এই অভিযানে চারটি সুখোই সু-৩৪ ফাইটার বম্বার জেট ধ্বংস হয়েছে এবং আরও দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট ছবিও প্রকাশ করেন।
কৃষ্ণসাগরে দানিউব নদীর মোহনায় রোমানিয়ার জলসীমায় নিরপেক্ষ দেশের পতাকা বহনকারী দুটি কেমিক্যাল ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান জানিয়েছেন যে জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে গেছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো অন্তত সাতজন নিখোঁজ নাবিককে খুঁজছে।
জেলেনস্কি জানান যে স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড ইন্টারনেট টার্মিনালে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সীমিত করে দেওয়ার সুযোগ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ৮৫০টির বেশি শাহেদ ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক সিস্টেমগুলো ধীরগতির করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে এগুলো মার্কিন সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। তবে পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে জেলেনস্কির বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে।
স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা সেবাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করার দাবি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনেটরদের একটি দ্বিপক্ষীয় দল পেন্টাগনকে চিঠি দিয়েছে। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসিকে জানান যে স্টারলিংক যোগাযোগের সুবিধা আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাকে সরাসরি আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন সমকক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান যে তিনি মার্কিন প্রশাসনের কাছে প্রতারিত বোধ করছেন। ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করায় ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে ইউক্রেনের নতুন একজন প্রেসিডেন্ট পাওয়া উচিত।
