শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

মার্কিন অভিবাসন নীতি

আফগান অভিবাসীদের বড় ধরনের বহিষ্কারের পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

আফগান অভিবাসীদের বড় ধরনের বহিষ্কারের পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এক দল আফগান অভিবাসীকে আবার আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। গত শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং সাবেক সেনাসদস্য ও অধিকার সংগঠনগুলোর একটি মোর্চা এই তথ্য জানিয়েছে।

আফগানদের টার্গেট করে পরিচালিত সবচেয়ে বড় একক বহিষ্কার অভিযানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এটি। এর মাধ্যমে ১৫০ জনের বেশি আফগান অভিবাসীকে দেশ থেকে অপসারণ করা হতে পারে। এই ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে পরিকল্পিত এই বহিষ্কার কার্যক্রম পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হবে। তালেবান সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় আফগানিস্তানে সরাসরি উড়োজাহাজ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান ইভ্যাক সংস্থার প্রধান শন ভ্যানডিভির ব্যাখ্যা করেছেন যে বহিষ্কারের মুখে থাকা এই ব্যক্তিদের অনেকেই তালেবান ক্ষমতা দখলের পর নিজেদের মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়ে এসেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করার পর ২০২১ সালে তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিল।

ভ্যানডিভি সতর্ক করে বলেছেন যে যাঁদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে স্থানীয় মিত্রদের আত্মীয়স্বজনেরাও রয়েছেন। মার্কিন বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছিলেন এমন পুরুষদের ভাই এবং ছেলেরাও এই তালিকায় আছেন এবং তালেবানের রোষানলে পড়ার যথেষ্ট কারণ এই পরিবারগুলোর রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার যুক্তিতে তাঁর বৃহত্তর অভিবাসন অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য কঠোর বহিষ্কার নীতি অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি করছেন তিনি।

মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন যে এই কঠোর পদক্ষেপগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে বর্ণগত আচরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে।

আসন্ন বহিষ্কারের খবর নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। সম্ভাব্য ফ্লাইটগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার পেছনে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েছে তারা।

মার্কিন কংগ্রেসকে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভ্যানডিভি। দেশটিতে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের বহিষ্কার থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁদের অস্থায়ী সুরক্ষাকবচ বা স্ট্যাটাস প্রদান করে একটি বিল পাস করার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আটকে থাকা আফগানদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি আগামী সোমবারের মধ্যেই রওনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তান নিজেই ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ২০ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিককে জোরপূর্বক আফগানিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে।

banner
Link copied!