অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রুন শহরে দুই বন্দুকধারীর বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত সপ্তাহে একটি চেকপোস্টে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছিলেন ওই হামলাকারীরা।
গত ২৩ অক্টোবরের ওই হামলার পর চেকপোস্টটির আশেপাশে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই ঘটনার সময় দুই বন্দুকধারীও নিহত হয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে আগামী মঙ্গলবারের সাধারণ নির্বাচনের আগে জনসমর্থন বাড়াতে এই অভিযান ব্যবহার করছেন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি সরকারের দাবি, সেনাসদস্যদের ওপর হামলার সরাসরি জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে হামলা প্রতিহত করতে এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষা দিতে তাদের আক্রমণাত্মক ও সক্রিয় অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেনা সদস্যরা বলপূর্বক বের করে দেওয়ার আগে সেগুলোতে ওই বন্দুকধারীদের স্ত্রী ও সন্তানেরা বসবাস করতেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চেকপোস্টে হামলার পর থেকে হেব্রুনে আরও অনেক বাড়িঘর, দোকানপাট, রাস্তাঘাট ও কারখানা ধ্বংস করেছে সামরিক বাহিনী। তবে এই ভাঙচুরের সঠিক পরিধি কতটুকু, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কর্তৃপক্ষ শহরটির বেশিরভাগ প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীসহ সাধারণ ফিলিস্তিনিদের যাতায়াতের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
এই সামরিক অভিযানের কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিন হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ভলকার তুর্ক চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছেন যে এই ধরনের বাস্তুচ্যুতি অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দেয়।
ভলকার তুর্ক আরও যোগ করেন যে সম্পূর্ণ এলাকা খালি করে দেওয়ার এবং মুছে ফেলার হুমকি জাতিগত নির্মূলের গুরুতর আশঙ্কার সৃষ্টি করে। নেতানিয়াহু এমন একটি ডানপন্থী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যার আমলে দ্রুত বসতি সম্প্রসারণ ঘটেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও অধিকাংশ দেশ এই বসতিগুলোকে অবৈধ মনে করলেও ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
বর্তমান সরকারের আমলে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রবাদী বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতাও বহুলাংশে বেড়েছে। রামাল্লার নিকটবর্তী কুফর মালেকে গত শুক্রবার প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন, ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ধাক্কা দিচ্ছে এবং কৃষকদের জলপাই সংগ্রহ করতে বাধা দিচ্ছে, আর সেনা সদস্যরা দাঁড়িয়ে তা দেখছেন।
ফিলিস্তিনিরা পাথর ছুঁড়ছে এমন খবর বসতিস্থাপনকারীদের কাছ থেকে পাওয়ার পর তারা জবাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনী। এর জের ধরে দুই ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বসতিস্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার খবরের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। ঘটনার সময় উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শীও কোনো ফিলিস্তিনিকে পাথর ছুঁড়তে দেখেননি।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলা ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে নিয়মিতভাবেই হামলার ঘটনা বেড়ে যায়। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ইয়েশ দিন গত ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত জলপাই সংগ্রহের ওপর অন্তত ১৩৫টি শারীরিক হামলার নথিবদ্ধ করেছে।
