সামরিক অস্ত্র চালান বন্ধের দাবিতে ‘আমরা যুদ্ধের জন্য কাজ করি না’ স্লোগানে পাঁচ মহাদেশের ডক শ্রমিকরা মঙ্গলবার সমন্বিত ধর্মঘট শুরু করেছেন। বাণিজ্যিক বন্দরগুলো সামরিক অভিযানের পরিবর্তে বেসামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হোক, এই দাবি জানাতে আন্তর্জাতিক কর্মদিবসে পঁচিশটিরও বেশি শ্রমিক ইউনিয়ন অংশ নেয়।
গ্রিক সংবাদ পোর্টাল ৯০২-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিস, ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, তুরস্ক, ডেনমার্ক, সুইডেন ও জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসব দেশের বিভিন্ন বন্দর স্থাপনায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখেন এবং সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
গ্রিসের প্রধান বন্দর শহর পিরাসে একটি বড় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ‘শ্রমিকরা যুদ্ধের জন্য কাজ করে না’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করেন। পিরাস ও পাত্রাস বন্দরের কার্যক্রমেও এই ধর্মঘটের কারণে বিঘ্ন ঘটে।
থেসালোনিকি বন্দরেও এই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে, যেখানে তিন ঘণ্টার কাজের বিরতিতে দুশোটিরও বেশি কন্টেইনার ও ট্রাক আটকা পড়ে। ফ্রান্সের ফোস-সুর-মের বন্দরে শত শত শ্রমিক শিপিং সুবিধার সামরিকীকরণের বিরোধিতাকারী ব্যানারের নিচে বিক্ষোভে অংশ নেন।
ইতালির রেজ্জো ক্যালাব্রিয়ার ডক শ্রমিকরা স্থানীয় তরুণ ও অন্যান্য শ্রমিকদের সমর্থন পান, যারা পিকেটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন। জার্মানির হামবুর্গ বন্দরে তরুণ ডক শ্রমিক ও প্রশিক্ষণার্থীরা এক সংহতি সমাবেশের আয়োজন করেন।
সুইডেনের বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন ইউরোপীয় বন্দরগুলোর সামরিকীকরণের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউনিয়নটি সতর্ক করে বলেছে, নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে যেন শ্রমিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম সীমিত করা না হয়।
ডেনমার্কে ট্রেড ফেডারেশনগুলো এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। তাদের যুক্তি, অস্ত্র পরিবহনের মাধ্যমে ডক শ্রমিকদের কোনোভাবেই যুদ্ধ বা যুদ্ধাপরাধের অংশীদার করা উচিত নয়।
ভারতের সমুদ্রগামী নাবিক ও ডক শ্রমিকরাও আন্তর্জাতিক এই কর্মদিবসে অংশ নেন এবং শান্তিপূর্ণ বন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের দাবি জানান।
নো হারবার ফর জেনোসাইড ক্যাম্পেইন জানিয়েছে, ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস ও মরক্কোর বেশ কিছু বন্দর ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে পাঠানো অস্ত্র চালানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ইতালির জেনোয়া, লিভোর্নো ও জিওইয়া টাউরোর পাশাপাশি মার্সেই, পিরাস ও মরক্কোর তাঞ্জিয়ার বন্দর এর অন্তর্ভুক্ত।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঊনত্রিশটি দেশের ছাপান্নটি বাণিজ্যিক বন্দর দিয়ে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের উপাদানের তিনশো পনেরোটি চালান তারা ট্র্যাক করেছে।
