শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় নতুন বাস্তুচ্যুতি

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা: জাতিগত নির্মূলের আশঙ্কা জাতিসংঘের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা: জাতিগত নির্মূলের আশঙ্কা জাতিসংঘের

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বারবার বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় গত শুক্রবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা জাতিগত নির্মূলের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকার একটি ক্ষুদ্র ও সংকুচিত অংশে ফিলিস্তিনিদের বারবার ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ওএইচসিএইচআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নির্ধারিত মোতায়েন রেখা অতিক্রম করে নতুন এলাকায় প্রবেশ করছে।

হলুদ রেখা নামে পরিচিত এই মোতায়েন সীমানাকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায়শই একটি কিল জোন বা মৃত্যুপুরী হিসেবে গণ্য করছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিরা তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভিটামাটিতে আর ফিরে যেতে পারছেন না।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার বাকি থাকা বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে চলেছে বলে সতর্ক করেছে ওএইচসিএইচআর। সামরিক এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও আশ্রয়শিবিরে হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ত্রাণ বিতরণকারী দলগুলো বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। জাতিসংঘের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের কার্যক্রম পশ্চিম দিকে প্রসারিত করেছে।

এই সম্প্রসারণের কারণে গাজা সিটির শুজাইয়া এবং মধ্য গাজার বুরেজ, দেইর আল বালাহ ও আল মাগাজির পূর্ব অংশে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। শুজাইয়া এলাকার দুটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অবশিষ্ট অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুজাইয়া মোড়ের একটি তাবু শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে বোমা হামলার খবর গত রবিবার পায় ওএইচসিএইচআর। ফিলিস্তিনের জনপূর্ত ও আবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় লাগা আগুনে ২০০ পরিবারের অন্তত ৮০০ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অধিকৃত ফিলিস্তিনে ওএইচসিএইচআর-এর প্রধান অজিৎ সুংহাই গাজার বাস্তুচ্যুতি সংকটকে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী এক দুঃস্বপ্ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষেরা নিজেদের আদি বাড়িতে ফেরার কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না, কারণ ওই এলাকাগুলো হলুদ রেখার বাইরে অবস্থিত।

চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় গত ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১,৫৭৪ জন নিহত এবং ৫,৬৮৭ জন আহত হয়েছেন। অবরুদ্ধ উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৭৪,৫৭০ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৫,৮০৮ জন।

banner
Link copied!