হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুই মিলিয়নের বেশি ব্যারেল ক্রুড অয়েল বহনকারী একটি সুপারট্যাংকার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে যে জলপথটির দক্ষিণ অংশ ব্যবহার না করার জন্য বারবার রেডিও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি তা উপেক্ষা করেছিল।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপলস জানিয়েছে যে জাহাজটি একটি অননুমোদিত দক্ষিণ রুট দিয়ে প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। মাইনের আঘাতে সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
সামরিক এই শাখাটির তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবারের শুরুর দিক থেকে প্রণালিতে কোনো ট্যাংকারে আগুন লাগার এটি ছিল চতুর্থ ঘটনা। ইরানি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই প্রণালি ও এর আশেপাশে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি অনুরূপ ঘটনার কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে নৌমাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারও রয়েছে।
অন্য একটি ঘটনায়, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে যে গ্রিনউইচ সময় সন্ধ্যা ১৮০০ টায় ইরানের লাভান দ্বীপের ৪০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে একটি জাহাজ অজ্ঞাত প্রক্ষেপণা অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই প্রক্ষেপণাটি জাহাজের বাম পাশে আঘাত হানে এবং জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে যে হামলার পর জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদ আছেন এবং কোনো পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইরানি সামরিক বাহিনীর উল্লেখিত ট্যাংকারের সঙ্গে ইউকেএমটির এই ঘটনাটির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এই প্রণালিটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকেই সামুদ্রিক উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার ফলে ইরানও অঞ্চলজুড়ে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রাথমিক উত্তেজনার পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়, যার মধ্যে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি স্মারকও রয়েছে। প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌচলাচল ব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে।
তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
