শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

লেবানন সংঘাত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বাড়িঘর ধ্বংস ও ব্যাপক গোলাবর্ষণ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বাড়িঘর ধ্বংস ও ব্যাপক গোলাবর্ষণ

লেবাননের খিয়াম ও কানতারা শহরে তীব্র ভারী মেশিনগানের গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কানতারা শহরে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় বার্তা সংস্থা।

বিন্ত জুবাইল জেলার তাইরি শহরে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এছাড়া ওয়াদি আল-হুজেইর থেকে টুলিন শহরের দিকে ১৫৫ মিলিমিটারের শেল ব্যবহার করে ভারী আর্টিলরি হামলা চালানো হয়।

আর্কৌব অঞ্চলের কাফার শুবা এলাকার আশপাশেও আর্টিলরির শেল আঘাত হানে। বিন্ত জুবাইল জেলার হাদাতা এলাকার বহির্ভাগ এবং সুর জেলার ওয়াদি জিবকিন এলাকাও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

মাইফাদৌন ও জাওতার আল-শারকিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় দফায় দফায় আর্টিলরি গোলাবর্ষণ করা হয়। অন্যদিকে কাফার শুবা-সেদানা হিল-শেবা সড়কে হাসান নাবা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার বাড়িটি বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণে বাড়ির ভেতরের সবকিছু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তাইবাহ শহরের ওপর আকাশে একটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। রুব থালাথিন এলাকার এক যুবক ওয়াদি আল-হুজেইরে তার গাড়ি থামিয়ে কানতারার দিকে পায়ে হেঁটে রওনা দেওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফ্লোরিডার টাম্পা শহরে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে প্রযুক্তিগত সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই এসব ঘটনা ঘটল।

কোনো যৌথ ঘোষণা বা দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই এই বৈঠক শেষ হয়। সূত্র জানিয়েছে, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

গত ২৬ জুন একটি রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছেছিল বৈরুত ও তেল আবিব। ওই চুক্তিতে লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমে সরে আসার কথা বলা হয়, যার বিনিময়ে লেবানীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কথা ছিল।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি পরীক্ষামূলক এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি শহরে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে, অথচ ৫০টিরও বেশি শহর এখনো ইসরায়েলি দখলেই রয়ে গেছে।

চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২ মার্চ থেকে চলা এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে চার হাজার তিনশ ছিয়াশিত জন নিহত এবং বারো হাজার চারশ সাতজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন দশ লাখেরও বেশি মানুষ।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ দখল করে আছে ইসরায়েল। এর মধ্যে কিছু এলাকা কয়েক দশক ধরে এবং বাকি অংশগুলো ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় দখল করা হয়। সর্বশেষ সংঘাতের সময় তাদের বাহিনী লেবানীয় ভূখণ্ডের ভেতরে প্রায় দশ কিলোমিটার পর্যন্ত এগিয়ে যায়।

banner
Link copied!