গত মঙ্গলবার নাইজারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইউরেনিয়াম খনিসমৃদ্ধ শহর আরলিতে পৌঁছেছে আলজেরিয়ার একটি সামরিক কনভয়। দশটি সূত্র সাংবাদিকদের এই সেনা উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে মিশরের সমর্থনে সেনা পাঠানোর পর এটিই আলজেরিয়ার প্রথম কোনো বিদেশি ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের ঘটনা।
পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মতো নাইজারও আল-কায়েদা ও দায়েশ সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে।
নাইজারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে আলজেরিয়ার এবং সাহেল-সাহারার স্থিতিশীলতা রক্ষা করা দেশটির অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকার।
আলজিয়ার্সের জন্য নাইজারে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফোকাস।
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি সোনাম্রাচ এই দেশে ট্রান্স-সাহারান গ্যাস পাইপলাইনসহ বড় ধরনের সম্পদ ও প্রকল্প পরিচালনা করে।
নাইজার ও নাইজেরিয়ার যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য আফ্রিকান প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা।
আলজেরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থেই এই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে মোতায়েন করা সেনার সংখ্যা কিংবা তাদের সেখানে অবস্থান করার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুম ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই সামরিক বাহিনীর শাসনাধীন রয়েছে নাইজার।
ইউরেনিয়াম, তেল এবং সোনার বিশাল মজুতসমৃদ্ধ এই খনিজপ্রধান দেশের সামরিক অভ্যুত্থানের শুরুতেই বিরোধিতা করেছিল আলজেরিয়া।
সাম্প্রতিক এই সেনা মোতায়েনের ঘটনা আলজিয়ার্স এবং নিয়ামির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে গত বছর মালি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আলজেরিয়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এমন অভিযোগে সাময়িকভাবে আলজিয়ার্স থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছিল নাইজার।
