গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান ইবোলা মহামারিতে মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড করা ইবোলার সবচেয়ে মারাত্মক এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এখনো কোনো কার্যকর উপায় খুঁজে পায়নি কর্তৃপক্ষ। গত মে মাসে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর থেকে দেশজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
বর্তমান এই মহামারিটির পেছনে রয়েছে বিরল বুন্দিবুগিও স্ট্রেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা এখনো পাওয়া যায়নি।
ভাইরাসটি আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। নাইজেরিয়া গত সপ্তাহে একটি ইবোলা রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে চতুর্থ আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেখানে সংক্রমণ ধরা পড়ল এবং ভাইরাসটি পশ্চিম আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করল। পূর্ব আফ্রিকায় উগান্ডা ও কেনিয়াও রোগী পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে রেকর্ড হওয়া এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহামারি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মহামারিটি ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে। সেই সময় ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
আঞ্চলিক ও বাইরের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আসা পরিদর্শকদের কোয়ারেন্টািনে রাখার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব গত শুক্রবার কেনিয়া থেকে যাতায়াত এবং দেশটিতে প্রবেশ স্থগিত করেছে।
এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সৌদি নাগরিকদের কেনিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির ভ্রমণকারীদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখা। কেনিয়া থেকে আগত ব্যক্তিদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। এমনকি তৃতীয় কোনো দেশের ট্রানজিট দিয়ে আসা যাত্রীরাও এর আওতায় পড়বেন, যদি তারা গত ২১ দিনের মধ্যে কেনিয়া বা অন্য কোনো ক্ষতিগ্রস্ত দেশে অবস্থান করে থাকেন।
এর আগে গত জুনে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে ভ্রমণ ও প্রবেশাধিকার স্থগিত করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
