নাইজারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে একজন বিশিষ্ট স্বাধীন সাংবাদিককে জোরপূর্বক নিখোঁজ রাখার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রবীণ সাংবাদিক মুসা কাকা গত ৩১ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
খবর প্রকাশের জন্য রুলিং অথরিটির প্রতি অবিলম্বে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি। ষাটোর্ধ্ব মুসা কাকা পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশের স্বাধীন সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও টেলিভিশন সারৌনিয়ার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও বেসরকারি সংগঠন তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। নাইজারের সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বহুবার তুলেছে।
২০২৩ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ভিন্নমতের ওপর এই দমনপীড়ন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রাজধানী নিয়ামেতে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর একটি সেনা বিদ্রোহের ঠিক পরপরই মুসা কাকা নিখোঁজ হন।
রাশিয়ার মিত্রদের সহায়তায় এবং রাজধানীর বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ সেই চ্যালেঞ্জটি প্রতিহত করা হয়েছিল। তবে প্রবীণ এই সংবাদকর্মীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো তথ্য দেয়নি।
এমনকি তাঁকে আটকের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণও রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর আইনি বা দাপ্তরিক অবস্থা এখনও সম্পূর্ণ অনির্ধারিত রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাহেল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইলারিয়া আলেগ্রোজি সরকারের এই চরম অস্বচ্ছতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। নাইজারে মুসা কাকা নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পরও কর্তৃপক্ষ তাঁর অবস্থান জানাতে পারেনি অথবা আটকের ব্যাখ্যা দেয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কোনো ধরনের সুষ্ঠু অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই তাঁকে আটকে রাখা হলে অবিলম্বে মুসা কাকাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে নাইজারের সামরিক সরকারের ওপর যথাযথ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের জন্য বিদেশি সরকারগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন আলেগ্রোজি।
