ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে অর্থায়নের যে অভিযোগ উঠেছে তা সরাসরি নাকচ করেছে কাতার। দোহা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরায়েলি রাজনীতিবিদরা কাতারকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন। তিনি জানান, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ কাতারকে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা চালানো, ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
আল-আনসারি বলেন, ইসরায়েলি নির্বাচনে কাতার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেছে কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করেছে এমন সব অভিযোগ আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি রাজনীতিবিদরা এর আগে কখনো নেতানিয়াহু, কখনো বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং এখন আরব ভোটারদের ওপর দোহার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি তীর্যকভাবে মন্তব্য করেন, এসব অভিযোগ যদি সত্যি হতো তাহলে মনে হতো পুরো ইসরায়েল দেশটাই কাতারের মালিকানাধীন।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধানের একটি নির্দেশের পর এই প্রতিক্রিয়া জানায় দোহা। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার সন্দেহের বিষয়টি তদন্ত করতে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটকে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নোয়াম সোলবার্গ।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কাজ করছে এমন সংগঠনগুলোকে কাতার অর্থায়ন করেছে। আরব ভোটারদের জোরালো উপস্থিতি নেতানিয়াহুর জন্য আবারও ক্ষমতায় ফেরার পথ কঠিন করে তুলেছে।
বিচারক সোলবার্গ এই সন্দেহগুলোকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করলেও এর পক্ষে কোনো শক্ত ভিত্তি নেই বলে স্বীকার করেন। দাবির পেছনে কোনো প্রমাণ বা সত্যতা আছে কি না তা খুঁজে বের করতে তিনি নিরাপত্তা সংস্থাকে নির্দেশ দেন।
আল-আনসারি এই অভিযোগগুলোকে ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ও তাদের মদদপুষ্ট গণমাধ্যমের একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই কাতারকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাজেদ আল-আনসারি আরও বলেন, কিছু ইসরায়েলি রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ঢাকতে কাতারকে বলির পাঁঠা বানানো উচিত নয়।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১২০ সদস্যের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো যৌথভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি।
