বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ২৭২ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর নিজেদের প্রথম ইনিংসে চার উইকেটে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোর স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় স্বাগতিকদের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকন ৫৩ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি। প্রথম দিনে দুটি উইকেট শিকার করার পর বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাংলাদেশের শেষের দিকের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দেন।
এর আগে বাংলাদেশ প্রথম দিনে তিন উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করে। দিনের দ্বিতীয় বলেই অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জোশুয়া বিশপের বলে ফ্লিক করে নিজের তৃতীয় টেস্ট শতক পূর্ণ করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।
তবে শতক পূর্ণ করার পরের ওভারেই বিশপের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ১০৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। এই পতনের পর মাত্র ৫১ রান যোগ করতেই শেষ সাত উইকেট হারিয়ে ধসে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাদমান বলেন, আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। শীর্ষ সারির ব্যাটাররা যদি নিজেদের ইনিংসগুলোকে ১৫০, ১৭০ বা ২০০ রানে রূপান্তর করতে পারত, তবে দলের সংগ্রহ চারশো বা পাঁচশো রানে পৌঁছাতে পারত।
আগের দিন পেশির টানের কারণে ৪২ রান করে মাঠ ছেড়ে যাওয়া তাওহিদ হৃদয় আজ আবার ব্যাট করতে নামলেও ব্যক্তিগত স্কোর আর বাড়াতে না পেরে বিশপের বলে বোল্ড হন। তবে লিটন দাস ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
দুপুরের বিরতির আগেই ওয়ারিকন ও পেসার শামার জোসেফ মিলে বাংলাদেশের বাকি ব্যাটারদের গুটিয়ে দেন। সফরকারীদের পক্ষে বিশপ ও জোসেফ দুটি করে উইকেট লাভ করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিংয়ের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দারুণ সূচনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৫ রান করা কিং হাসান মাহমুদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ২৯ রানে প্রথম ধাক্কা খায় তারা।
এরপর ক্যাম্পবেল দারুণ আক্রমণাত্মক খেলে ৬১ বলেই নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং চা বিরতির আগেই দলকে ৮৯ রানে পৌঁছে দেন। তবে এরপর প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকে।
ক্যাম্পবেল জানান, বল কিছুটা পুরোনো হয়ে আসছিল এবং বৃষ্টির বিরতির আগে দলের গতি ভালো ছিল। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকায় প্রতিপক্ষ গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং তারা সঠিক জায়গায় বল করতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।
বিরতির পরপরই মেহেদী হাসান মিরাজের একটি তীক্ষ্ণ টার্ন করা বল খেলতে গিয়ে ৫৪ রান করে আউট হন ক্যাম্পবেল। স্লিপে দারুণ এক ডাইভ দিয়ে ক্যাচ লুফে নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এরপর ৩৬তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তিনি কাভেম হজকে সাত রানে এবং আমির জাঙ্গুকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিলে ৯৭ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে দিন শেষের আগে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি অবিচ্ছিন্ন জুটিতে থাকা তাজনারায়ণ চন্দপল ও জাস্টিন গ্রিভস। চন্দপল ৪৩ ও গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত থাকার পর আলোর স্বল্পতার কারণে দিনের খেলার সমাপ্তি টানা হয়।
