সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ত্রিদেশীয় সিরিজ

শাদাবের অনবদ্য সেঞ্চুরি: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর জয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১১:০০ পিএম

শাদাবের অনবদ্য সেঞ্চুরি: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর জয়

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। লাহোরে শাদাব খানের অসাধারণ এক সেঞ্চুরির সুবাদে এই জয় নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলাও নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।

,

রান তাড়ায় নেমে এক সময় ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল আরও ৮৮ রান। ইংল্যান্ড যখন সহজ জয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন গ্যালারির দর্শকরা স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শাদাব খান ও হারিস রউফ শেষ উইকেটে অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে দেন।

,

ম্যাচে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয় যখন শাদাব ৯৭ রান করার পর ফুলটসে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন। তিনি মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটতে শুরু করেন এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতও মেলান। ঠিক তখনই রিভিউতে দেখা যায় বল ব্যাটের ভেতরের কানা ছুঁয়ে গেছে। জীবন ফিরে পেয়ে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি এবং ১১৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

,

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ম্যাচটি উচ্চ স্কোরিং হলেও এবার বড় সময়জুড়ে বোলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ার্ল্ড সিরিজের ঐতিহাসিক গোলাপি রঙের জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান দল। ইনিংসের অর্ধেক পথ শেষে ইংল্যান্ডকে ২৪১ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর স্বাগতিকদের বেশ স্বস্তিতে মনে হচ্ছিল।

,

টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। ইংলিশদের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন বেন ডাকেট, যিনি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন। দারুণ সব সুইপ শট খেলে ১০৫ রান করেন ডাকেট। এর আগে ইনিংসের শুরুতেই টম ব্যান্টনকে আউট করে ওয়ানডে ক্রিকেটে দেড় শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

,

তবে ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড এবং দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বসে। ডাকেট ও স্যাম কারানের মধ্যকার ৯৩ রানের জুটি দলকে বিপর্যয় থেকে কিছুটা রক্ষা করে। পরে শাহিনের বলে কারান ৪২ রান করে আউট হন। শেষ দিকে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদানে ২৪১ পর্যন্ত পৌঁছায় ইংল্যান্ডের সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ডাকেটকে সাজঘরে ফেরান আরাফাত মিনহাস।

,

লাহোরের ফ্লাডলাইটের আলোয় রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে পাকিস্তানও। গ্যাস আটকিনসনের বলে গাস ওভারটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফখর জামান। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত সনি ক্রোকবের প্রথম ওয়ানডে উইকেটে পরিণত হন সাইম আইয়ুব।

,

স্বাগতিক দর্শকদের কিছুক্ষণের জন্য স্বস্তি দেন বাবর আজম। নান্দনিক কিছু ড্রাইভ শট খেললেও আটকিনসনের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। সাদ বেগ ৩২ রান করলেও ইংলিশ বোলারদের নিয়মিত আঘাতে ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে পাকিস্তান। লিয়াম ডসন, স্যাম কারান ও ওভারটনের আঁটসাঁট বোলিংয়ে পাকিস্তানের পতন অব্যাহত থাকে।

,

পরে লিয়াম ডসনের বলে সালমান আলী আগা আউট হলে নবম উইকেটের পতন ঘটে পাকিস্তানের। এরপর শাদাব ও রউফের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ এবং জয়সূচক জুটিতে স্তব্ধ হয়ে যায় সফরকারী ইংল্যান্ড দল।

banner
Link copied!