সংঘাতে বিপর্যস্ত মিয়ানমারে এ সপ্তাহে একটি মানবিক সহায়তা মিশন পরিচালনা করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান। দেশটির দুর্গম অঞ্চলের এগারো হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব থেরেসা লাজারো আসিয়ান বিশেষ দূত হিসেবে মিয়ানমার সফর করেছেন। বর্তমানে আঞ্চলিক এই জোটটির সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করছে ফিলিপাইনের সরকার।
আসিয়ানের এগারোটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মিয়ানমার অন্যতম। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তিরস্কারের মুখে রয়েছে দেশটি।
সেনাবাহিনীর এই ক্ষমতা দখলের ফলে মিয়ানমারে চরম গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যার কারণে লাখ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হন।
আসিয়ানের এই মনিটরিং টিম মিশনটি গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিয়ানমারে অবস্থান করে। সফরকালে কর্মকর্তারা কায়িন রাজ্য, দক্ষিণ শান রাজ্য এবং উত্তর শান রাজ্য পরিদর্শন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে থেরেসা লাজারো জানান, বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে চালের বস্তা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার কিট বিতরণ করেছে মিশন দল।
তিনি জানান, এই সফরের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী একটি মানবিক অভিযানের সূচনা হলো, যা আসিয়ান কোঅর্ডিনেশন সেন্টার ফর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স তথা আহা সেন্টারের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
আহা সেন্টার আসিয়ানের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত মিয়ানমার রেড ক্রস সোসাইটির সঙ্গে মিলে ৫০ কেজির চালের বস্তা ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ করবে এই সংস্থাটি।
সফরকালে থেরেসা লাজারো একটি ধর্মীয় ভবন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করার কথা ছিল। পাশাপাশি, গত বছর মধ্য মিয়ানমারে আঘাত হানা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর জন্য শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনাও ছিল তার।
মিয়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে থেরেসা লাজারো কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধি দলটি নেপিডোতে পৌঁছালে তাদের অভ্যর্থনা জানান দেশটির উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইউ নাইং মিন কিয়াও।
আগামী মাসে ম্যানিলায় বসছে আসিয়ান নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন। তার ঠিক আগেই এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।
সংকট নিরসনে ২০২১ সালের পাঁচ দফা ঐকমত্যের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে চাপ অব্যাহত রেখেছে আসিয়ান। ওই চুক্তিতে সহিংসতা বন্ধ, অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংলাপ এবং বৈষম্যহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাস পর্যন্ত মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে চল্লিশ লাখ।
২০২১ সালে এই সংখ্যাটি ছিল মাত্র ছয় লাখের কাছাকাছি। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশেষ দূত হিসেবে প্রথমবার মিয়ানমার সফর করেছিলেন থেরেসা লাজারো।
সে সময় তিনি সাবেক সেনাপ্রধান ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী মিন অং হ্লাংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
