শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি

ইউক্রেনের কাছে দুইশ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

ইউক্রেনের কাছে দুইশ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার আনুমানিক দুইশ দশ কোটি ডলার ব্যয়ে ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে এসব অস্ত্র হাতে পেতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে, অথচ রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে অবিলম্বে এই মজুত প্রয়োজন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রির ফলে ইউক্রেনের সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে এই অস্ত্রগুলো ঠিক কবে নাগাদ ইউক্রেনে পৌঁছাতে পারে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর ওপর চলমান হামলার বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন যে রুশ বাহিনী বর্তমানে প্রতিদিন তাদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

রুশ বাহিনীর নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ঢেউ প্রতিহত করার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন বলে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে। দ্রুতগামী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাটি সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দ্নিপ্রো শহরের একটি জনাকীর্ণ রেল প্ল্যাটফর্মে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য দুটি প্রাদেশিক শহরে দিনের বেলার হামলায় আরও পাঁচজন এবং রাজধানী কিয়েভে গভীর রাতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে অবিলম্বে ইউক্রেনকে দেওয়ার মতো যথেষ্ট প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত রয়েছে। তিনি জানান, ইউক্রেন ও এর অংশীদারদের আগে থেকেই পরিশোধ করা চুক্তির মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে এই মজুত পূরণ করা সম্ভব এবং এটিই হবে সঠিক পদ্ধতি ও সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।

ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে এই বিলম্ব কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি ডিজেল চুক্তির ঘোষণা দেন এবং রুশ তেল শোধনাগারের ওপর হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের অনীহার সমালোচনা করেন।

কিয়েভের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হলেও ইন্টারসেপ্টরগুলো খুব দ্রুত পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। সাধারণত অস্ত্র বিক্রির চুক্তি বাস্তবায়ন করতে কয়েক বছর সময় লাগে এবং মার্কিন সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওয়াকিবহাল দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো তৈরিই করা হয়নি এবং দুই হাজার ত্রিশের দশকের শুরুর দিকের আগে সেগুলোর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ওই সূত্রের একজন জানিয়েছেন যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনকে ডেলিভারির তারিখ এগিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করছে। এর মধ্যে মার্কিন অস্ত্রাগারে বর্তমানে থাকা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভে পাঠিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তীতে নতুন অর্ডার করা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর দিয়ে সেই খালি হওয়া মজুত পূরণ করার বিষয়টিও থাকতে পারে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদান থেকে ইউএস জাম্পস্টার্ট নামক একটি কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেন এই ক্রয়ের অর্থায়ন করবে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের মাধ্যমে সমর্থিত জাতীয় তহবিল থেকেও অর্থায়ন আসছে।

পেন্টাগনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, জাম্পস্টার্ট কর্মসূচিটি মিত্রদের অনুদান ব্যবহার করে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র, সেবা ও প্রশিক্ষণ ক্রয়ের কাজ করে থাকে। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর বিক্রির ক্ষেত্রে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে লকহিড মার্টিন।

যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি মিত্রদের বড় পরিমাণে অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নিজস্ব সামরিক অভিযানেও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এসব কার্যক্রম আকাশ প্রতিরক্ষা এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

banner
Link copied!