গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রতিদিন এর ব্যত্যয় ঘটছে।
মধ্য গাজার আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছে, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরে এক ইসরায়েলি হামলায় জিয়া আবু আল-রউস মারা গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির কার্যালয়ের কাছে এই হামলা চালিয়েছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন।
আরেকটি ঘটনায় মারা গেছেন আরাফাত আল-আরাইর। কয়েক দিন আগে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পশ্চিম গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলার সময় তিনি আহত হয়েছিলেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক যান ও আর্টিলারি থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার পূর্ব অংশ, গাজা সিটি, দক্ষিণের খান ইউনিস এবং মধ্য অঞ্চলের দেইর আল-বালাহতে এই হামলা চালানো হয়।
গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় আর্টিলারির গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি মেশিনগান থেকে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া গাজা সিটির পূর্ব তুফ্ফাহ এলাকার আল-সানাফৌর মোড়ের কাছাকাছি আবাসিক বাড়িগুলোতে ভারী গুলিবর্ষণ করে সামরিক যান।
খান ইউনিস শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নগরীর দক্ষিণাঞ্চলের আল-ইকলিমী ও বীর উনিশ এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক যান। এই হামলায় কয়েকটি তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে এ পর্যন্ত ১,৫৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,৬৮৭ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া সামগ্রিক সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৪,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৫,০০০ এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে অবরুদ্ধ উপকূলীয় উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
