যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিসর। দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ নতুন মোড় নিলে তা আগের সব সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি।
বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আইআইএসএস মানামা ডায়ালগ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
সম্মেলনে আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংঘাতের দ্বিতীয় পর্যায়টি হবে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক এবং এর মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক ফল আসবে না।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বারবার নানা বাধার মুখে পড়ছে। গত জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়।
ওই চুক্তিটি কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ক্ষেত্রেও যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি।
চলমান নানা প্রস্তাবের অংশ হিসেবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে তারা সাত দিনের মধ্যে এই জলপথটি আবার খুলে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা পর্দার আড়ালে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
দুই দেশের সরকারগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা গত শুক্রবার তেহরান সফর করেছেন।
কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর সঠিক ক্রম কী হবে, তা নিয়ে আলোচনার টেবিলে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
পারমাণবিক আলোচনাকে আগে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নাকি নৌবাহিনীর অবরোধ ও তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি আগে সমাধান করা দরকার, তা নিয়ে আলোচনা থমকে আছে।
