সোমালিয়ায় রাজনৈতিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটিয়েছে জাতিসংঘ। এর মাধ্যমে পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে জাতিসংঘের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা শান্তিপ্রচেষ্টার একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
সোমালি কর্তৃপক্ষকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটিতে ইউএনসোম নামের রাজনৈতিক মিশন চালু করেছিল। অপরাধচক্র, মিলিশিয়া বাহিনী এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দুই দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী সংঘাতের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এরও অনেক আগে ১৯৯৫ সালে সোমালিয়ার জন্য জাতিসংঘের রাজনৈতিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা শুরু হয়েছিল।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ ২০২৪ সালের মে মাসে এই মিশনটি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। যদিও ওই বছরের অক্টোবরে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে পরবর্তীতে তিনি দুই বছরের একটি রূপান্তর সময়সীমা প্রস্তাব করে নিজের অনুরোধে কিছুটা পরিবর্তন আনেন।
এই সমন্বয় পর্বের সময় ইউএনসোম মিশনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সোমালিয়ায় জাতিসংঘের ট্রানজিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন বা ইউএনটিএমআইএস।
মিশনের এই ম্যান্ডেট বা কার্যকালের সমাপ্তি উপলক্ষে একটি বিবৃতি দিয়েছেন রেইসডন জেনেঙ্গা। তিনি ইউএনটিএমআইএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান এবং সোমালিয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন।
জেনেঙ্গা বলেন, আজকের দিনটি জাতিসংঘ ও সোমালিয়ার মধ্যকার অংশীদারিত্বের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা।
তিনি আরও জানান, দেশটির পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার শুরুর দিককার তুলনায় সোমালিয়া এখন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।
পূর্বে মিশনের অধীনে থাকা সমস্ত ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব এখন স্থানীয় সোমালি প্রতিষ্ঠানগুলো কিংবা জাতিসংঘের বৃহত্তর দেশের টিমগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এমন এক সময়ে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো, যখন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব সোমালিয়ার মধ্যভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের মুখেও এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি গত দুই দশক ধরে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক তহবিল হ্রাসের কারণে সামরিক অভিযানগুলো ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি প্রধান লজিস্টিক মিশনের সব ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা এসব অভিযানের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।
আগামী বছরের মে মাসে সোমালিয়ায় সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দেশটিতে অব্যাহত নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এখনও হুমকিতে ফেলছে।
