সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের এক শীর্ষ কমান্ডার দলত্যাগ করেছেন। গত শুক্রবার হাতে আসা এক এক্সক্লুসিভ ভিডিও বার্তায় তিনি বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গভীর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন।
ওই ভিডিও রেকর্ডিংয়ে সিদ্দিকা আন্দের জানান, আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো যিনি হেমেদতি নামে পরিচিত, তাঁর পরিবারের সদস্যরা সশস্ত্র এই দলটির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নেতৃত্বের পরিবার অর্থ সম্পদ, অস্ত্রভাণ্ডার, সেনা চলাচল এবং সামরিক পদোন্নতির বিষয়গুলো কঠোরভাবে একক নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করে থাকে।
আন্দের সতর্ক করে বলেন, যারা দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে সত্য প্রকাশ করতে চান, তাদের বহিষ্কার, কারাবাস কিংবা অজ্ঞাত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। উল্লেখ্য, হেমেদতির ভাই আবদুল রহিম হামদান দাগালো এই আধাসামরিক সংগঠনের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চলতি বছর আরএসএফ ছেড়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব হলেন আন্দের। এর আগে গত ৮ অক্টোবর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আজরাক আলফানজারি দলত্যাগের ঘোষণা দেন এবং যাওয়ার সময় তিনি ৩০০ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য এবং ৩০টি সামরিক যান সঙ্গে নিয়ে যান।
আলফানজারি প্রকাশ্যেই অন্য যোদ্ধাদের দল ছেড়ে আসার আহ্বান জানান এবং এই যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জনগণের দুর্ভোগের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন। তার আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আলতাইয়িব আলওয়াহিদও দলত্যাগ করেন এবং অভ্যন্তরীণ নির্যাতনের অভিযোগ এনে ৫০ জন যোদ্ধা নিয়ে ওমদুরমানে প্রতিদ্বন্দ্বী সুদানি সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেন।
সামরিক নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত মে মাসে আধাসামরিক বাহিনী ছেড়ে যান ব্রিগেডিয়ার আলি রিজকাল্লাহ, যিনি সাভানা নামে পরিচিত। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মেজর জেনারেল আলনৌর আহমেদ আদমও নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
আধাসামরিক বাহিনীগুলোকে নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে তীব্র ক্ষমতার লড়াই শুরু হয় এবং দেশজুড়ে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘায়িত এই লড়াইয়ের ফলে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের উভয় পক্ষের মধ্যে ড্রোন হামলা বৃদ্ধির মধ্যেই এই দলত্যাগের ঘটনাগুলো ঘটছে, যার ফলে বেসামরিক লোকজনের হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৬ অক্টোবর দক্ষিণ দারফুরের আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত শহর নিয়ালার একটি বাজার ও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়।
সুদানভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স নিয়ালার হামলায় শতাধিক মৃত্যুর নথিপত্র প্রকাশ করেছে, যদিও বিভিন্ন চিকিৎসা সংস্থা এর চেয়ে কম মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে যে চলমান যুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে এখন ড্রোন হামলা সামনে আসছে।
