শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

লেবানন নিরাপত্তা

বিস্ফোরক আটকের ঘটনায় লেবাননে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা: হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

বিস্ফোরক আটকের ঘটনায় লেবাননে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা: হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা

অস্ত্র রাখা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ক্ষতি করা এবং অবৈধ সংগঠন গড়ে তোলার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বৈরুত ও পূর্ব বেকা উপত্যকাকে সংযোগকারী দাহর আল-বাইদার চেকপোস্টে চলতি মাসের শুরুতে একটি ট্রাক আটকের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানান, ওই গাড়িতে ৭শ ৮০ কেজি বিস্ফোরক ছিল, যার মধ্যে আড়াইশ কেজি টিএনটি এবং আড়াইশ কেজি সি-ফোর প্লাস্টিক বিস্ফোরক রয়েছে।

অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাকি ১১ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে কেবল ছদ্মনামে শনাক্ত করা হয়েছে, কারণ তাদের আসল নাম জানা যায়নি।

উদ্ধার করা বিস্ফোরকের মালিকানা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ দখল করে রাখা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই এই উপকরণগুলো রাখা হয়েছিল।

সেই সঙ্গে লেবাননের কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্ফোরকের চালান ফিরিয়ে দেওয়া এবং দুই বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। তারা এই অভিযোগগুলোকে অন্যায্য বলে অভিহিত করেছে।

হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ হাসান অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, আসামিরা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ক্ষতি করেননি, বরং লেবাননকে হুমকিতে ফেলা ইসরায়েলি শত্রুর মোকাবিলা করেছেন।

তবে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক বিরোধীদের শঙ্কা, এই বিস্ফোরক দেশের ভেতরের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এই চালান দিয়ে অভ্যন্তরীণ কোনো হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা এখনো তদন্তকারীরা নিশ্চিত করতে পারেননি।

হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা নিরস্ত্র করার জন্য যখন নানা দিক থেকে চাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইসরায়েলের সঙ্গে দুটি যুদ্ধ করা এই গোষ্ঠীটি বৈরুতের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ক্রমাগত চাপের মুখে রয়েছে।

গত জুন মাসে লেবানন ও ইসরায়েল একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবানীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের শর্ত সাপেক্ষে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলের ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

তবে অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির প্রধান নাঈম কাসেম লেবানন-ইসরায়েল চুক্তিটিকে বাতিল ও অবৈধ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আইনি কাঠামোর বাইরের যেকোনো অস্ত্র শক্তহাতে দমন করবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে রূপরেখা চুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। দখলকৃত বহু গ্রামের বাড়িঘর ও অবকাঠামো পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

banner
Link copied!