ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের সমর্থন আবার জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ভোটারদের বর্তমান নেতাকে সমর্থন করার এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি গত ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র সবার নজরে আনেন।
নেতানিয়াহুকে একজন অসাধারণ যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সময় তাদের দুজনের ঘনিষ্ঠ কর্মপদ্ধতির কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
শত্রুপক্ষসহ সবাই জানে যে একসঙ্গে বিজয় অর্জনে বিবি এবং আমার মধ্যে দুর্দান্ত সম্পর্ক রয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি নামের একটি মার্কিন সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে এমনটাই লিখেছেন ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর ফলে সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল দশায় পড়েছে। ইরানে মুদ্রাস্ফীতি ৩০১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং একটি নৌ অবরোধের মাধ্যমে সমস্ত তেল রপ্তানি সফলভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন এই সাবেক প্রেসিডেন্ট দাবি করেন যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের দুই স্তরের ইরানি নেতৃত্ব নির্মূল করা হয়েছে। ইসরায়েলি নাগরিকদের সেভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভোটারদের অবশ্যই নেতানিয়াহুকে সমর্থন করতে হবে। আমরা যে কাজ শুরু করেছি তা আমাদের শেষ করতে হবে, এমন মন্তব্যও তিনি করেন।
গত অক্টোবরে ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে লেখা সেই চিঠিতে নেতানিয়াহুকে একজন মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তেহরানের মোকাবিলায় শান্তির ক্ষেত্রে আরও বড় অংশীদার বলে বর্ণনা করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দশকের পর দশক ধরে চলা হুমকির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
ট্রাম্প যুক্তি দেখান যে ইরানকে সুযোগ দেওয়া হলে তারা তাদের শত্রুভাবাপন্ন কথার বাস্তবায়ন ঠিকই করত। তিনি জানান যে সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই দেশটিকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে ইসরায়েলি ভোটাররা যদি অন্য কোনো নেতাকে বেছে নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক দায়িত্ব নিতে বাধ্য হবে।
ইসরায়েলের যদি ভুল নেতা থাকে, যা বিবি ছাড়া অন্য যে কেউ হতে পারে, তবে আমেরিকাকে এই কাজ নিজের হাতে করতে হবে এবং আমার সেই ইচ্ছা নেই, প্রকাশিত লেখার মধ্যে এমনটাই লিখেছেন ট্রাম্প।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতার মুখেও নেতানিয়াহুর অটল থাকার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন যে এই ইসরায়েলি নেতা চাপের মুখে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে নেতানিয়াহু হলেন ঠিক সেই ধরনের কৌশলগত অংশীদার, যা ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছ থেকে আশা করে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলি ভোটারদের সরাসরি একটি আহ্বানের মধ্য দিয়ে অক্টোবরের সেই সমর্থনপত্রটি শেষ করেছিলেন ট্রাম্প। বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনোই নিরাশ করবেন না, এমন ঘোষণা তিনি দিয়েছিলেন।
