ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ফ্ল্যাভিও বোলসোনারোকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক চতুর্থ মেয়াদে জয় নিশ্চিত করেছেন লুলা দা সিলভা।
উচ্চ নির্বাচনী আদালত জানিয়েছে, প্রায় সবকটি ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষে বৈধ ভোটের ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ পেয়েছেন লুলা। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট।
৪০ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এই জয় তুলে নেন লুলা দা সিলভা।
ব্রাজিলের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ফলাফল একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকল।
১৯৮৯ সালে দুই ধাপের নির্বাচন পদ্ধতি চালুর পর থেকে প্রথম রাউন্ডে দ্বিতীয় হয়েও রানঅফ বা দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হওয়ার প্রথম নজির গড়লেন লুলা।
গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ভোটের প্রথম রাউন্ডে ৪৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো। সে সময় ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোট পেয়ে পিছিয়ে ছিলেন লুলা।
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশটিতে এই ফলাফল তিন সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিল।
বোলসোনারো পরিবারের জন্য এই রানঅফ নির্বাচনের ফলাফল একটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।
ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও ৪৫ বছর বয়সী এক সিনেটর, যিনি তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ধারাকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে ভোট গণনার শুরুর দিকে বেশ কয়েকবার ব্যবধানের পটপরিবর্তন ঘটে।
তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা যখন শহরাঞ্চল ও জনবহুল উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ আরও বেশি ভোট গণনা করতে শুরু করেন, তখন ধীরে ধীরে এগিয়ে যান লুলা।
এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল শাসন করেছিলেন লুলা দা সিলভা এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে আরও একটি মেয়াদে জয়লাভ করেন।
আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁর চতুর্থ প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
