২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার মুখোমুখি হচ্ছে শিরোপাপ্রত্যাশী শক্তিশালী ফ্রান্স এবং লড়াকু প্যারাগুয়ে, আল জাজিরা ও ফিফা এমনটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করবে। এরপর পরবর্তী রাউন্ডে তারা কানাডা অথবা মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে। উভয় দলের জন্যই আজকের এই ম্যাচটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স যেখানে আরও একটি শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, প্যারাগুয়ে সেখানে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
ফ্রান্স এবারের আসরে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে এবং তাদেরকে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে। গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক এবং নরওয়েকে উড়িয়ে দেওয়ার পর, ৩২ দলের লড়াইয়ে ফরাসিরা সুইডেনকে ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে এবং অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়দের চমৎকার নৈপুণ্যে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে দলটি তাদের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে এবারের আসরে চমক দেখিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপ পর্বে কঠিন বাধা পার হওয়ার পর নকআউট পর্বের ম্যাচে তারা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে দিয়ে সারা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর, পেনাল্টি শুটআউটে প্যারাগুয়ে নাটকীয় জয় তুলে নেয়। জার্মানদের মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করার পর প্যারাগুয়ে দল এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে এবং তারা প্রমাণ করেছে যে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো তার দলের খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে লরেন্ট ব্লাঙ্কের দেওয়া অতিরিক্ত সময়ের গোল্ডেন গোলের সুবাদে ফ্রান্স জয়লাভ করেছিল। যা কম স্পষ্ট তা হলো, প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণভাগ এবার ফরাসিদের তীব্র আক্রমণ সামলে কতক্ষণ নিজেদের অক্ষত রাখতে পারবে। খেলা যত এগোচ্ছে, মাঠের উত্তেজনা তত বাড়ছে এবং ফুটবলপ্রেমীরা নিশ্চিতভাবেই একটি দারুণ লড়াই উপভোগ করার অপেক্ষায় রয়েছেন। পুরো বিশ্বের নজর এখন এই রোমাঞ্চকর ম্যাচের দিকে।
