রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

কানাডার জালে বল জড়িয়ে ১-০ গোলের লিড নিল মরক্কো

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৫, ২০২৬, ১২:২০ এএম

কানাডার জালে বল জড়িয়ে ১-০ গোলের লিড নিল মরক্কো

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এক শ্বাসরুদ্ধকর নকআউট ম্যাচে স্বাগতিক কানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলের লিড নিয়েছে মরক্কো, বিবিসি নিউজ এবং দ্য গার্ডিয়ান এমনটি নিশ্চিত করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আজেদিন ওনাহির দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল আটলাস লায়ন্স খ্যাত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রতিনিধি মরক্কো। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে আসা কানাডার জন্য এই পিছিয়ে পড়া এক বিশাল মানসিক ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ম্যাচের ৫০তম মিনিটে একটি পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে এই চমৎকার গোলটি আসে। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি সরাসরি শট না নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থাকা মিডফিল্ডার আজেদিন ওনাহিকে নিখুঁত একটি পাস দেন। ওনাহি বল পেয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের ধারাভাষ্যে সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন এই গোলটিকে খেলার স্বাভাবিক গতির সম্পূর্ণ বিপরীত একটি ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, প্রথমার্ধে মরক্কো সেভাবে খেলায় প্রভাব ফেলতে না পারলেও একটি দুর্দান্ত সেট-পিসের মাধ্যমে তারা ঠিকই লিড আদায় করে নিয়েছে।

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধে স্বাগতিক কানাডা একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল। বিশেষ করে একাদশ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তানি ওলুয়াসেই একটি চমৎকার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দারুণ দক্ষতায় তা নিজের বাঁ ঊরু দিয়ে রুখে দেন। কানাডার ফরোয়ার্ড জনাথন ডেভিড এবং উইঙ্গার রিচি লারিয়া বারবার মরক্কোর রক্ষণভাগে আক্রমণ শাণিয়েছেন। কানাডার খেলোয়াড়রা চমৎকার পাসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। কানাডার কোচ জেসি মার্শ সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের ক্রমাগত উৎসাহ যুগিয়েছেন, কিন্তু প্রথমার্ধটি গোলশূন্য ড্র নিয়েই শেষ হয়।

এর আগে ম্যাচের ২২তম মিনিটে মরক্কো দল একটি বড় ধাক্কা খায় যখন তাদের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ইসমায়েল সাইবারি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সোফিয়ান রহিমি। এছাড়া প্রথমার্ধে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি এবং কানাডার ডিফেন্ডার রিচি লারিয়ার মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলে ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন। তীব্র শারীরিক লড়াই এবং কৌশলগত দ্বন্দ্বের কারণে ম্যাচটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও এই দুই দলের দেখা হয়েছিল, যেখানে মরক্কো ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। এবার নকআউট পর্বে এসে স্বাগতিক হিসেবে কানাডা চমৎকার ফুটবল খেললেও মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভাঙা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হচ্ছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, পিছিয়ে পড়ার পর বাকি সময়ে কানাডা ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় ফিরতে পারবে কি না। এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত যে দল জয়লাভ করবে, তারা আগামী ৯ জুলাই বস্টনে অনুষ্ঠিতব্য কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে।

banner
Link copied!